আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং বিএনপির দায়ঃ পোস্টমর্টেম -১

87

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ অবশেষে শেখ হাসিনা তার জেদ বজায় রেখে বিশ্ব সম্প্রদায় এমনকি ভারতকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের নিরংকুশ দখলদারিত্ব কায়েম করে নিলেন। শেখ হাসিনার জেদের পাশাপাশি এটি বিএনপি নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা হিসেবেও পরিগনিত হয়েছে। তাদের একের পর এক খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত, হাইব্রিডদের নানানভাবে প্রাধান্য দেয়া, রাজনীতিবিদদের উপরে কর্মচারীদের মূল্যায়ন, বিভিন্ন স্তরে সংগঠনের মধ্যে অহেতুক গ্রূপিং করে নিজেদের লোকদের ব্যস্ত রাখা, অনভিজ্ঞ এবং হাইব্রিড লোকদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির কাজে দায়িত্ব দেয়াসহ নিজেদের ভুলগুলোকে না শুধরে উল্টো ভুলের উপর দৃঢ় থাকাই এই ব্যর্থতার কারন।

প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন তাহাজ্জুদ নামাজের পরেই অত্যন্ত সফলভাবে নির্বাচন কর্মটি সম্পাদন করে দেয়ায় শেখ হাসিনা তার দখল পোক্ত করায় বাড়তি সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এখন কাউকে কেয়ার করার অবস্থায় নেই। সামরিক বাহিনীর লোকজন নিয়ে তার এখন সামান্য মাথা ব্যাথাও অবশিষ্ট নেই। ভোটারগণ সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে ভিডিওতে দেখলাম সেনা সদস্যরা দৌড়ে গাড়িতে উঠে সোজা পালিয়ে গেল। এমন বাহিনীকে অন্তত ক্ষমতাশালী কেউ ভয় পাওয়ার কারন নেই। এরা কেবলমাত্র নিরস্ত্র বন্দী যে কোন নাগরিকের জন্য সাক্ষাত যমদূত; অন্যকিছুতে এরা পুরোটাই এখন অক্ষম।

এবার আসি বিএনপির প্রসঙ্গে। ইদানিং আমাকে শুনতে হয় আমি বিএনপি করি না, কিন্তু বিএনপি নিয়ে মাথা ঘামাই কেন? কেন তাদের ত্রুটি নিয়ে লিখি। এটা যাদের মাথায় সেই তাদের বিষয়ে কিছু লেখা সত্যি দুরহ। আমি এবং শেখনিউজ ডট কম বহু আগে থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের নানান ভুল ত্রূটি নিয়ে লিখেছি; বিএনপির নেতৃত্ব তাতে নিজেরা না শুধরে বরং অহংকারীর মত সেই ভুলগুলোতে দৃঢ় থেকে নিজেদের সর্বনাশের পথ প্রশস্ত করেছে।

অনেক আগেই বেগম জিয়ার আমলে বিএনপি ও সরকারে জেনারেল জিয়ার কর্মসূচীগুলো একে একে কৌশলে বাতিল করা হয়। গড়ে ওঠে আদর্শ চর্চাহীন এক বিএনপি। এই প্রজন্মের কোন বিএনপি নেতা কর্মী জানেই না জাতীয়তাবাদ কি এবং জাতীয়তাবাদীদের চরিত্র ও নীতি কর্মসূচী কি হবে। জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক স্কুল গড়েছিলেন, বেগম জিয়া সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ভারতকে প্রথম নৌ ট্রানজিট দিয়েছিল বেগম জিয়ার সরকার। ফালুর মত পথের মানুষকে হাজার কোটি টাকার মানুষ বানিয়েছেন বেগম জিয়া। অথচ যে সকল নেতা কর্মী বিএনপির জন্য এ পর্যন্ত জীবন দিয়েছে, বেগম জিয়ার ক্ষমতায় থাকাকালেও কে কি পেয়েছে তা সবাই জানেন।

মনে পরে আপোষহীন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে মরহুম আশকার ইবনে শাইখ, ওবায়দুল হক সরকার, চাষি নজ্রুল ইসলাম সহ অনেকেই জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গড়তে বহু দেনদরবার করেছেন তাদের জীবদ্দশায়। আওয়ামী পক্ষের ভারতীয় সংস্কৃতির চর্চায় সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলেও ব্যর্থ হয়েছিলেন সেদিনের প্রখ্যাত ব্যক্তিরা। তারা কোন সহায়তা পাননি বেগম জিয়ার কাছ থেকে। সর্বপরি বেগম জিয়াও শেষকালে জাতীয়তাবাদীদের ঐক্যের একমাত্র মূলমন্ত্র ভারত বিরোধিতাকে জিইয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরের ভুমিকায় মনে হয়েছে, তিনি যেন বিএনপিকে নিয়ে নয় ডঃ কামাল হোসেনদের সামনে রেখে রাজনীতি করতে সাচ্ছন্দবোধ করছেন। সেটা হতেই পারে। তবে তার মত রাজনৈতিক পোর্টফলীয়ধারী নেতা ভারতীয় পত্রিকায় নির্বাচনের আগে যে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তাতে জাতীয়তাবাদ কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটি অনুধাবন করার মত আক্কেল যে তিনি হারিয়ে ফেলেছেন সেটি আমার বুঝতে নিদারুন কষ্ট হয়েছে।

বার বার দেখেছি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মুজিব কোট পরে কেউ কিছু বললেই তিনি মহান নেতা হিসেবে জাতীয়তাবাদীদের কোলে চড়ে বসার সুযোগ পান; শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল বিএনপির লোক তাদের বন্দনায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে ডঃ কামাল হোসেনদের কাঁধে চড়িয়ে প্রমান করে দেয়া হয়েছে বিএনপিতে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ নেই। এটা কেউ মানেন আর নাই মানেন সত্য তাতে মিথ্যা হবে না। ডঃ কামাল হোসেনের ভারতীয় পত্রিকায় সাক্ষাতকার নিয়ে সমালোচনা করায় এমন সব শিক্ষিত বিএনপির নেতারা আমাকে আক্রমন করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন ডঃ কামালের বক্তব্যে নয়, আমার সমালোচনায় তাদের পরাজয় হবে।

পরবর্তী- ২ (চলবে)

Facebook Comments
SHARE