ঢাকা-দিল্লী অংশীদারিত্বের শানে নুজুল কি?

380

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বরাবরের ভারত এবং চলমান বাংলাদেশের সরকার দুটো ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এমন রূপ দিতে চাইছে যাতে তা কখনও উল্টো পথে না যায়। আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর ভারত প্রেমে দিওয়ানা হওয়ার উদগ্রীব বাসনা।

ইতিমধ্যেই দুই দেশের অংশীদারিত্বকে ‘স্থায়ী’ রূপ দিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্ষিয়ক রূপরেখা প্রণয়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; তবে এটি জাতির কাছে পরিস্কার নয় অংশিদারিত্ব আসলে কার উপর কার। এটি কি বাংলাদেশের উপর ভারতের অংশিদারিত্ব নাকি ভারতের উপরও বাংলাদেশের সম অংশিদারিত্ব?

ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের নামে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। যদিও এই সকল সমঝোতা আর চুক্তিতে কি থাকে বা আছে জাতির পক্ষে জানা কোন কালেই সম্ভব হয় না। কারন দেশ এখন পুরোটাই মালিকানার ভিত্তিতে চলে গেছে। যদিও মনে হচ্ছে পারিবারিক মালিকানা কিন্তু আসল তথ্য হচ্ছে মালিকানা হচ্ছে কর্পোরেট বানিজ্যের মালিক ও মাদকের ডিলারদের যাদের প্রতিনিধিত্ব করে রাজনৈতিক পরিবারগুলো।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্বারকগুলো হল-

ক. বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে সমঝোতা স্মারক

খ. আয়ুর্বেদ, ইয়োগা, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প ওষুধ খাতে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

গ. দুর্নীতি দমন নিয়ে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে ইতিমধ্যেই ভারতের আওতাধীন করে নেয়া হয়েছে। পুলিশে ভারতীয় নাগরিকদের চাকুরীর বিষয়টি ওপেন সিক্রেট, সরকারি কর্মকর্তারা অনেক আগেই ভারতীয়দের অক্সিলিয়ারি ক্যাডারে পরিনত হয়েছে, সেটির আরও ব্যাপ্তি বাড়ানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের ঔষধ এবং চিকিৎসা খাত অনেক আগেই ভারতের দখলে, এখন বাদবাকি
আয়ুর্বেদ, ইয়োগা, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প ওষুধ খাতটিও তাদের চাই।

সেই সাথে বাংলাদেশে যাই হোক না কেন মাদক আর কালো টাকার কোন কালিমা যেন ভারতকে না ছুঁতে পারে বা সেটি যাতে তারা তাদের মত করে নিয়ন্ত্রন করতে পারে সেই জন্য ‘সিবিআই’কেও এখন বাংলাদেশের অংশিদারিত্ব দেয়া হল।

এর বাইরে মংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে হীরানন্দানী গ্রুপের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তাকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দুই সরকার। মুক্তিযুদ্ধে কৌশলগত অংশিদারিত্বের বিষয়টি কি ছিল সেটি এখনো জাতির সামনে কোন দল প্রকাশ করেনি।

সাম্প্রতিক দিল্লীর বৈঠকে বলা হয়, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নদীর পানি ভাগাভাগি, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, পরিবহন যোগাযোগ, সংস্কৃতি, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ-প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত ও বাংলাদেশ অতীতের যে কোনো সময়ের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করায় সন্তোষ প্রকাশ করে দুই পক্ষ। এখন স্যাটেলাইট, পরমাণু শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রেও ভারত-বাংলাদেশের সহযোগিতার বিস্তার করায় সাধুবাদ জানান হয়।

চারিদিকে শুধুই অংশিদারিত্ব, একতরফা। আর নিশ্চুপ অধুনা গোলামে পরিনত হওয়া বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদীরা। তারাও এখন ভারত প্রেমে মশগুল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের অভিমত এই সকল অংশিদারিত্বের চেয়ে ভারতের সরাসরি মালিকানা অনেক সুখকর হবে, বাংলাদেশীদের সেটি বুঝানোর জন্যই এই সকল কাজ কৌশলে ভারত করিয়ে নিচ্ছে।

Facebook Comments

Hits: 120

SHARE