ক্রসফায়ারে হত্যা একরামুলের পরিবারকে চুপ থাকার ‘নির্দেশ’

248

শেখনিউজ রিপোর্টঃ র‍্যাবের ক্রসফায়ারে হত্যার সময় টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের সচল মোবাইলের সাথে সংযুক্ত ছিল অন্য প্রান্তে থাকা স্ত্রী আয়েশা বেগমের মোবাইল ফোন। সেই ফোনেই রেকর্ড হয় হত্যাকাণ্ডের অডিও ভয়েস। এখন সেই মোবাইলটি জিম্মায় নিতে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার পক্ষ।

সম্প্রতি একরামুলের বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেগম মিডিয়ার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, গত জুলাইয়ে র‍্যাব পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে তাঁর ও তাঁর মেয়েদের ক্ষতি হতে পারে এমন হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনটি চান এবং ২০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলেন। একরামুলদের পরিবার মনে করে, খুনিরা হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মুছে ফেলতেই এই চেষ্টা চালিয়েছিল।

গত বছরের ৪ মে দেশজুড়ে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে একরামুল হককে হত্যাকরা হয়। গত বছরের ২৬ মে হত্যাকাণ্ডটি ঘটার সময় মেয়েদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, তাঁকে গুলি করার আগে-পরে একটি কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে যে যে বিবরণ থাকে, তার সবটাই শোনা যায় ফোনে থেকে যাওয়া রেকর্ডে।

একরামুলের ঘরের দেয়াল জুড়ে একরামুলের দুই মেয়ের আঁকা ছবি ও ছোট ছোট বাক্যে লেখা, ‘মানুষ কত খারাপ, আমাদের আব্বু থেকে আমাদেরকেই আলাদা করে দিল।’ এ অনুভুতি রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কে একটি প্রজন্মের যে ধারনা বেড়ে উঠছে তা অনাকাংখিত। একরামুলের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে এই অবিচারের কথা ভুলবে না। তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার আমৃত্যু চেয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।


একরামুল হক সরকারী দলেরই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন, তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবার রেখে যাওয়া ৪০ বছরের পুরোনো বাড়ির এক কক্ষে থাকতেন। ব্যাংকে টাকা পয়সা নেই, ধারদেনা করে পৈতৃক ভিটায় বাড়ি তোলার কাজ শুরু করেছিলেন, শেষ করতে পারেননি। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাপে সেদিন সন্ধ্যায় যখন বের হন, তখন মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো টাকা ছিল না। বাসার উল্টো দিকের একটি হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার করে বেরিয়েছিলেন বলে মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব যে সংবাদ বিবৃতি দেয় তা দেখে মনে হয়েছে একরামুলকে খুন করানোর ভীষণ চাপ ছিল। র‍্যাব লিখেছে, ২৬ মে দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-৭–এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় গুলিবিনিময়ের সময় যিনি নিহত হন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যসায়ী ও ইয়াবা গডফাদার টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুল হক কমিশনার (৪৬), পিতা মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার, নাজিরপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা, টেকনাফ, কক্সবাজার।অথচ একরামুলের বাবার নাম মোজাহার মিয়া নয়, তার ঠিকানাও নাজিরপাড়া না। নাজিরপাড়া পৌরসভার বাইরে, সদর ইউনিয়নের একটি গ্রাম।

এমনি ভাবেই দেশব্যাপী অনেক হত্যা গুম করেছে সরকার যা দেশকে একটি বধ্যভুমিতে পরিনত করেছে।

ছবিঃ প্রথম আলো।

Facebook Comments

Hits: 94

SHARE