ইয়াবা সম্রাট আত্মসমর্পণের আদেশ দিয়েছেন ইয়াবা কারবারিদের

242

শেখনিউজ রিপোর্টঃ অবশেষে বাংলাদেশের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে খ্যাত সরকারী তালিকাভুক্ত মাদক মাফিয়া আবদুর রহমান বদি অন্যান্য সকল ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করার আদেশ জারী করেছেন। অন্যথায় কারবারিদের পরিণতি ‘ভয়াবহ হবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

অবশ্য এ আদেশ তিনি জারী করেছেন শুধুমাত্র কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার ইয়াবা কারবারিদের জন্য। আদেশ জারির সময়ে তার সাথে ছিলেন অধুনা সম্পন্ন কথিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দেখানো বদির স্ত্রী শাহিন আকতার চৌধুরী।

অন্যদিকে বাগেরহাট থেকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত দেখানো শেখ পরিবারের কনিষ্ঠ প্রতিনিধি শেখ তন্ময় ঘোষণা করেছেন, তার কাছে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা রয়েছে, এখনো তিনি সেই তালিকা পুলিশের বা অন্যান্য সংস্থার কাছে দেন নাই; সত্বর ঐ মাদক কারবারিরা তার সাথে দেখা করে ভালো হয়ে যাওয়ার আদেশ জারী করেছেন; যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

বদি আদেশ দিয়ে বলেছেন, “যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত তাদের আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে হবে।”

গত বছর শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ার দিয়ে বদির এক বেয়াইসহ অনেককে হত্যা করলেও বদির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনা ওঠে। অভিযান শুরুর পর জাতীয় পার্টির প্রধান এইচ এম এরশাদ বলেছিলেন, ‘মাদক সম্রাট’ তো সংসদেই রয়েছেন।

বাগেরহাটে মাদক বন্ধে কারবারিদের তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন অধুনা এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়। যে তিনদিন পার হয়ে গেলেও ফলাফল কি, কে কে ভালো হয়েছে, কিভাবে হয়েছে; কোন খবর পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে  ইতিপূর্বে যাদের নাম ছিল তাদের মধ্যে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও প্রকাশ পায়। নারকোটিক্স বিভাগ থেকে এমপি, আওয়ামী যুবলীগ নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান সিআইপিসহ ১৪১ জনকে গডফাদার হিসেবে একটি তালিকা বানানো হয়েছিল; কিন্তু সেই তালিকায় যাদের নাম আছে তারা বহাল থাকলেও, ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় ছোট কারবারিদের।

জনম্নে সন্দেহ, সরকারী দলের লোকেরা মাদক নির্মূলের এই আওয়াজ দিয়ে মূলত তাদের নির্বাচনী খরচ উঠানোর একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন মাত্র।

Facebook Comments
SHARE