বিপ্লবী সিরাজ সিকদারঃ বাংলার মুক্তির একমাত্র প্রতীক

403

শুভ্র সিকদারঃ মহান দেশপ্রেমিক বিপ্লবী সিরাজ সিকদারকে হত্যার ৪৪ তম বার্ষিকী পার করলো নিষ্পেষিত বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশ তথা স্বাধীন পূর্ব বাংলার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দলিল প্রণয়নকারী সিরাজ সিকদারকে সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল শিখণ্ডী পুলিশ ও রক্ষীবাহিনীর অফিসারগন। ১৯৭৫ এর ২ জানুয়ারি সেই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গণতন্ত্র নামের কোন বৃক্ষ আর বাংলাদেশে বেড়েই ওঠেনি।

সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আওয়ামী বিরোধী দলগুলো বিরোধী দলে থাকতে আওয়ামী লীগের উপর দোষারোপ করে কাটায়; আর ক্ষমতায় গেলে ইনিয়ে বিনিয়ে কাটিয়ে দেয় পুরোটা মেয়াদ।  জেনারেল জিয়াউর রহমান নিঃসন্দেহে একজন দেশপ্রেমিক; কিন্তু তিনিও সিরাজ সিকদার হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। 

জেনারেল এরশাদের আমল ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ছিল;ভারতের কুচবিহারে জন্ম নেয়া জেনারেল এরশাদ বিপ্লবী সিরাজ সিকদার হত্যার বিচারের মত এক কঠিন সিদ্ধান্ত যে নেবেন না; তা সবাই স্বাভাবিকভাবে ধরে নিয়েছিল।  কিন্তু এরশাদ পরবর্তী সময়ে ৩ বার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা ভোগ করেছেন; কিন্তু একবারের জন্যও এই বিপ্লবীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোন বিচারের ব্যবস্থা করেন নাই।  শুধু তাই নয় ৯০ পরবর্তী সময়ে সিরাজ সিকদার পরিষদ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল; কিন্তু সেই মামলা করার জন্য কোন বিএনপি পন্থী আইনজীবীকেও সেদিন রাজি করানো যায় নাই।

বিপ্লবী সিরাজ সিকদার কি চেয়েছিলেন? তার কোন চাওয়ায় শাসক আওয়ামী লীগ তাদের পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার মত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? কারন একটাই পূর্ব বাংলার জনগণের মুক্তির পথ বের করে সেই পথে মুক্তিযুদ্ধকে পরিচালিত করা।  আত্মনির্ভরশীল মুক্তিযুদ্ধ গড়ে তোলা।  পাকিস্তানী উপনিবেশ মুক্ত হয়ে ভারতীয় ব্রাহ্মন্যবাদী সম্প্রসারনবাদের কবলে না পড়া।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নিজস্ব পদ্ধতিতে না গিয়ে ভারতীয় সহায়তায় একটি ভংকুর বা প্রি-ম্যাচিউর দেশ জন্ম নেয়ায় আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  জাতি আওয়ামী ও বিএনপি নামক একই আদর্শহীন দুই বুর্জোয়া ধারার রাজনীতির যাঁতাকলে পরে নিজেরাই নৈতিকতাহীন এক রাষ্ট্রের বাসিন্দায় পরিনত এখন। এর সাথে আছে ইসলামী রাজনীতির পুঁজি ব্যবহারকারী দল ও আরেক আদর্শহীন জাতীয় পার্টি এবং কমিউনিস্ট নামের একদল পরজীবী।  

সবাই এখন জনগণের দুঃখকে পুঁজি করে রাষ্ট্র দখলের পায়তারা করে; সময়ে সময়ে প্রতিপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হয়; কিন্তু সত্যকার অর্থে কেউই মুক্তির সংগ্রাম করতে রাজি নয়। জাতির মুক্তির লক্ষ্যে কেউই জীবন বাজী রাখতে রাজি নয়।

শুধুমাত্র দেশপ্রেমিক বিপ্লবী সিরাজ সিকদার ছিলেন ব্যাতিক্রম; কারন তিনি জাতির জন্য ফ্যাসিবাদী ভণ্ডদের সাথে আপোষ করেন নাই; তাই যুগে যুগে এ জাতির জন্য তিনিই প্রতিবাদের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবেন।  

Facebook Comments

Hits: 93

SHARE