ডঃ কামালের বুঝতে সময় লাগলো ৪৭ বছর!

294

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ডঃ কামাল হোসেনের ৪৭ বছর সময় লাগলো আওয়ামী লীগ ও তার জাতির পিতার সন্তান শেখ হাসিনাকে বুঝতে। অথচ আমরা বুঝেছি তার অনেক যুগ আগেই। আর বিএনপির অতি উৎসাহীরা বুঝলেও যদি মিল্লা যায় লোভের কারনে লেজিটিম্যাসি দিয়ে দিলো রক্ত পিপাসুদের আরেকবার। এ সব ভুলের দায়ভার এখন নেবে কে? কে এই ব্যর্থতার দায়িত্ব নিয়ে সরে যাবেন?

কেউ ই সরে যাবেন না; তবে সম্ভবত ডঃ কামাল হোসেন বিদেশীদের সাথে চলাফেরা করা মানুষ, তিনি হয়তো এমন কোন বিবৃতি দিয়ে নিজের ইজ্জত বাঁচাবেন। আর কেউ এমন গণতান্ত্রিক হবেন বা হতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারন এই লিমিটেড কোম্পানি মার্কা রাজনীতিতে একমাত্র সম্পত্তি কেউ হারাতে চায় না। আর কোম্পানির মালিকদের খাস কর্মচারীরা চাকরি ও পরিচয় হারানোর ভয়ে উল্টো আমার এই লেখার কারনে প্রকাশ্যে গালাগালি করবেন।

আমি ডঃ কামাল হোসেনের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিপক্ষ একজন ক্ষুদ্র মানুষ; আমি হলে কখনই তার সাথে রাজনৈতিক জোটবদ্ধ হতাম না। তিনি সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এ যে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তার বাংলা ভার্সন ‘ইত্তেফাক’সহ আরও কিছু পত্রিকায় প্রকাশ হলেও ডঃ কামাল কোন প্রতিবাদ করেন নি; কিন্তু বিএনপির কিছু লোকজন নিজেরাই ভুয়া পোর্টালে ডঃ কামাল হোসেনের নামে প্রতিবাদ ছেপে দিয়ে পুরো বিষয়টা লেজে গোবরে করে দিয়েছেন। এমনকি এ বিষয়ে আমি প্রশ্ন তুললে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে তুলো ধুনো করে ছেড়েছেন এমন ভাবে যেন ডঃ কামালের চেয়ে বাংলাদেশে আর কোন বড় মনিষী নেতার জন্মই হয়নি এবং তিনিই হচ্ছেন জেনারেল জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের একমাত্র উদ্ধারকারী ‘হামজা’।

আফসোস হল আরও যখন দেখলাম একই ভারতীয় পত্রিকায় যখন বিএনপি মহাসচিব ‘মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগিরের সাক্ষাতকার ছাপা হল এবং তিনি প্রকাশ্যে বললেন বিএনপি ভারত ও বিজেপির সাথে তৈলাক্ত সম্পর্ক করার জন্য উদগ্রীব কিন্তু তারা হাসিনার ভয়ে ভারতীয় পক্ষ তাদের সাথে কথাও বলতে চান না। তিনি আরও বলেন বিএনপি ভারত বিরোধী কোন দল না, কোনদিন ভারত বিরোধী ছিলই না। আমি হতবাক হয়ে গেলাম এমন নতজানু জাতীয়তাবাদী নেতা ও দলের অবস্থান দেখে। কিন্তু কিছুই বললাম না আবার কোন দোষ হয় এই ভেবে; হয়তো বলেই বসবে আমার কারনেই তারা হেরেছে। কিন্তু তারা যে অনেক আগেই হেরে বসে আছে সেটি তারা বা তাদের নেতা কখনই বোঝেন না। একগুয়েমি বা অহংকার নিয়ে রাজনীতি হয় না।

যারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একটা সফল কর্মসূচী পালন করতে পারে না; তারা কিভাবে একটা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মত রেডিক্যাল দলের কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে নেবে। আর ৮০ বছরের বৃদ্ধ যিনি সেই আওয়ামী আদর্শকেই ধারন করেন, তার নেতৃত্বেই বা কিভাবে বিজয় আসবে দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদীদের সেটিও তারা বোঝেনি। আমরা বুঝলেও আমাদের পাত্তাই দেয়া হয়নি। ফলাফল তাদের সামনে। লাভের মধ্যে তারা এবার অতি সুন্দর মনোরম স্থাপত্যের সংসদ ভবনে পুনঃ প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। সেটাই বা কম কিসে? অপেক্ষায় থাকি জাতি সাথে বাকিটা দেখার জন্যে।

Facebook Comments
SHARE