ওয়াও! ওয়াও! ওয়াও ইলিকশন!

144

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ এ এক আজব নির্বাচন! আজব নির্বাচনী ব্যবস্থা! পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এক জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজকেও দেখলাম বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার ডিবি পুলিশকে অনুরোধ করছেন তার একমাত্র কর্মী যাকে নিয়ে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন তাকে যেন ডিবি ছেড়ে দিয়ে যায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা, সরোয়ারকে নিসঙ্গ করেই ডিবি চলে যায়। পৃথিবীর কোন দেশেই কি এমনটি কল্পনা করা যায়?

পুরো চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, সরকার ও রাষ্ট্র পাগল হয়ে গেছে অদৃশ্য এক আশঙ্কায়; ক্ষমতায় শেখ হাসিনা না থাকলে কারুরই চামড়া থাকবে না! যদিও আওয়ামী লীগের নেতারা এমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্র, সরকার ও দলে তাদের লোকদের আতঙ্কিত হিসেবে প্রোগ্রামড করে দিয়েছেন আরও আগে থেকেই। যার ফল পুরো বিশ্ব দেখছে কেমন পাগলা ……… হয়ে গেছে তারা। যাকে তাকে মারছে, ধরছে, গুম করছে, গুলি করছে, জেলে ভরছে, পিটাচ্ছে। এ এক ভয়াবহ নরকের নাম। সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই নরক বানিয়ে না রেখে থাকলে বলতাম বাংলাদেশ নাম দিয়ে আরেকটি নরক সৃষ্টি করতে; যদিও এটি এখন নরকের সমার্থক।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ভারতের কোথাও শুনছেন না, তিনি নিজেই শঙ্কিত এখন যদি বিজেপির কথা শোনেন আর অতি সন্নিকটে আসন্ন ভারতীয় নির্বাচনে যদি কংগ্রেস এসে যায় তবে বিজেপির দালালীর কারনে সামনে আর সমর্থন পাবেন না; এদিকে অতি ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়ে বিজেপি এবার সত্যি সত্যিই শেখ হাসিনার উপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন; তবে অফিসিয়ালি তা প্রকাশ করছে না। শেখ হাসিনা সেটা জেনেই তার লোকজনকে পাগলা ……র মত রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন; যে কোন ভাবেই হোক ক্ষমতায় ফিরতেই হবে।

অনেকেই ভাবছেন বিশ্বকে কি বোঝাবেন তিনি; গত নির্বাচনে ১৫৩ টি বিনা ভোটে এমপি পেয়ে সেই সংসদ ৫ বছর বিদেশীদের বাঁধা ছাড়াই চালিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় এবারো ভাবছেন একবার ভোটে জিততে পারলে বিদেশিরা তাদের স্বার্থেই আওয়ামী সরকারকে সমর্থন দিবে। তাই অসংগঠিত বিএনপি, আগোছালো নির্বাচনী প্রচারণা, শঙ্কিত ভোটার সত্বেও মারাত্মকভাবে ভীত হয়ে একের পর এক নির্লজ্জ, এবং নির্মম আক্রমন করে যাচ্ছে তারা সবার উপর।

কিন্তু তাতেই কি সবকিছু থেকে পার পাওয়া যায়? ইতিহাস কি বলে? সবাই জানেন। কিন্তু টেবিলে থাপ্পড় দিলে হাতে ব্যাথা লাগবেই পাল্টা হিসেবে; এ থেকে নিস্তার পাবেন কিভাবে শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং আওয়ামী দল ও রাষ্ট্রের সবাই? নিয়তি যে নির্ধারিত হয়েই আছে; এমনতর ভোটে ক্ষমতায় গিয়েও যে শঙ্কা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের তাড়া করে ফিরবে, সেই টেনশনমুক্ত হবেন কিভাবে তারা? কারন নির্বাচনের পরেও কিন্তু যে কোন সময় যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে! আর সেই শংকার কারনেই নিজের ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরেই রাখছেন আপাততঃ।

ভোটারদের বলছি, শেখ হাসিনার প্রতি বিজেপির প্রকৃত সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে, নিজের শক্তি দিয়েই শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রাখতে নির্লজ্জ আক্রমন চালাচ্ছেন দেশব্যাপী, শঙ্কিত করে দিচ্ছেন ভোটারদের; তবে ভারতীয় সমর্থন রয়েছে ডঃ কামাল হোসেন গংদের পক্ষে তবে তা প্রকাশ্যে নেই। আর আমরা দেশপ্রেমিক যারা তারা ভারত বা পাকিস্তান কোন দেশের দালালদেরই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাই না।

আমরা স্বপ্ন দেখছি রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়ে ঘরে চলে যাওয়া আগামীর ঐ সকল সন্তানদের জন্য যারা আবার ফিরে এসে, এখনকার সকল পক্ষের রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার উপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের মেরামত কাজ সম্পন্ন করবে।

Facebook Comments
SHARE