ব্যরিস্টার খোকনকে পুলিশের গুলি, আব্বাসসহ ঐক্যজোট নেতাদের উপর হামলা অব্যাহতঃ অনিশ্চয়তায় পুরো দেশ

108

শেখনিউজ রিপোর্টঃ পুলিশের সরাসরি গুলিতে আহত হয়েছে এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। সরাসরি শারীরিক আক্রমণ করে নাজেহাল করা হয়েছে মির্জা আব্বাসকে, কক্সবাজারে হাসিনা আহমদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হলে এখানে আহত হয়েছে শতাধিক। দেশব্যাপী বিরোধী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মরন খেলায় নেমেছে সরকারী দল ও পুলিশ। আর ফুসছে জনতা। শেখ হাসিনার পরিনতি নিশ্চিত হচ্ছে তাদের নিজেদের লোকজনের হাতেই। 

এদিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা হামলা ও হুমকির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ আর বার্তসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ‘সেল্ফ-সেন্সরশীপ’-এর কথাও উঠে এসেছে৷ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীন ও বিরোধীকণ্ঠকে দমন করছে৷ পূর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথে যাতে কেউ বাধা না হয়- এটাই তাদের উদ্দেশ্য৷”

এদিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনসহ অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হয়েছে।ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনকে নিয়ে সোনাইমুড়ী বাজারে গণসংযোগ কালে পুলিশ ২ দিক থেকে ব্যারিকেট দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ২ দিক থেকে লাঠি চার্জ করে এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ব্যারিস্টার খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তার শরীরে ৫টি রাবার বুলেট লেগেছে। পুলিশের রাবার বুলেট ও আ’লীগের সাথে সংঘর্ষে মোট অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হয়।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের উপর হামলা হয়েছে।  কয়েকটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছলে বাশ, লাঠি, রড, চাপাতি হাতে ৩০/৪০ জনের একদল যুবক মির্জা আব্বাসের উপর হামলা চালায়। মির্জা আব্বাসকে এসময় ঘিরে ধরে কোনরকমে রক্ষা করেন তার নেতা-কর্মীরা।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আহত নেতাকর্মীদের মাথায়, পিঠে, হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, এই হচ্ছে সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি। সরকার বলছে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না । আসলে আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখবে কিনা সেটাই প্রশ্ন। আমরা নির্বাচন করতে পারবো কিনা এ বিষয়ে দেশের জনগণের মাঝে সন্দেহ রয়েছে। 

ঢাকা-৬ আসনের ঐক্যজোটের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী ইত্তেফাকের মোড় থেকে গণসংযোগ করতে করতে হাটখোলা গেলে সেখানে একটি দোকানের মধ্যে ঢুকেই ১৫-২০ জনের আওয়ামী লীগের একটি দল এসে তার উপর ও তার কর্মীদের ওপর হামলা করে।

কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহামেদ গণসংযোগ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র লোকজন। এসময় হাসিনা আহমদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলি তার গাড়ির কাচ ভেঙ্গে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে হাসিনা আহমদকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হলেও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ, লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।


যশোরে বিএনপি প্রার্থী অমিত ও আখাউড়ায় মুসলিম উদ্দিনের গণসংযোগে হামলা করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে হামলা করা হয়েছে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মওলা রনির স্ত্রীর ওপর। সারা দেশে এসব হামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে আটক করেছে। 

শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ আছে, প্রশাসন, ব্যাংকের টাকা, সেনাবাহিনী আছে তারপরও  তার লোকজন ডাকাতের মত আক্রমণ করছে। বিরোধী দলগুলো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে প্রচারনা চালাচ্ছে তারপরও তাদের ওপর আক্রমণ করছে। মির্জা আব্বাস যিনি ঢাকার মেয়র ছিলেন, ড. কামাল আপাদমস্তক ভদ্রলোক, বয়স্ক মানুষ, তার ওপর আক্রমণ করছে শেখ হাসিনার লোকজন। আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না তাদের ওপরও আক্রমণ হয়েছে। ভদ্র রাজনীতিবিদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

এগুলো মাত্র কয়েকটি ঘটনা। এমন চিত্র উঠে এসেছে সারা দেশে। শেখ হাসিনার সরকার জনগণের ভেতর ভয় ঢুকিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রন বজায় রাখতে চাচ্ছে যে কোন মুল্যে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভয় মূলত বিরোধী দল পাচ্ছে না, আক্রমনের দিশেহারা তাণ্ডব  অবস্থায় প্রমান হচ্ছে শেখ হাসিনা ভীত হয়ে তার লোকজন দিয়ে সবাইকে যেখানে যেভাবে পাচ্ছে  তার ওপরেই আক্রমণ চালাচ্ছে। এ বিষয়টি ভোটাররা বুঝে উঠলেই জোটবদ্ধ হয়ে পাল্টা আক্রমন করলেই আওয়ামী লীগ বা পুলিশের কেউ নিজেদের ঘর বাড়ীতে থাকতে পারবে না, জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করবে সবাই; অভিজ্ঞ মহল তাই মনে করছেন। তাদের মত চরম সন্ধিক্ষণে সশস্ত্র বাহিনী কখনই জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। 

Facebook Comments
SHARE