খোন্দকার মোশারফের অডিও ফোনালাপঃ সরকার কললিস্ট প্রকাশ করে না কেন?

204

শেখনিউজ রিপোর্টঃ  বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কথিত এক সদস্যের ফোনালাপের একটি অডিওসহ খবর প্রকাশ হয়েছে। এটি করেছে থাইল্যান্ড ভিত্তিক মিডিয়া এশিয়ান ট্রিবিউন৷ তারই সুত্রধরে হৈচৈ বাংলাদেশে। দায়ের হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের পরিবর্তে থাই মিডিয়ায় এই সংবাদ আগে প্রকাশ হল কিভাবে? নাকি উদ্দেশ্যমুলকভাবে পয়সা খরচ করে অডিও বানিয়ে থাই মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে?

বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বহুপ্রকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে যা দিয়ে শুধুমাত্র টেলিফোন নয় যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কথোপকথন রেকর্ড করা সম্ভব। এই যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে গিয়ে একটি সংস্থার প্রধান কোটি কোটি টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে ইতিপূর্বে। শেখনিউজ যে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এমনকি ভারতের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ এমন এক যন্ত্র খরিদ করে ভারতকে পাচার করে দিয়ে টাকা পয়সাই শুধু নয় নিজের শক্ত অবস্থানও করে নিয়েছিল। এমনতর সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার পরেও সরকার কেন থাই মিডিয়ার দিকে ঝুঁকল। প্রশ্নটা এখানেই।

আওয়ামী লীগের এক অসভ্য কথনে ওস্তাদ যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাণ্ডারি ভাবেন, সেই লোক এবং সেই অসভ্য কথনে পটু লোকটির সাঙ্গপাঙ্গরা এই সকল নকল অডিও বানাতে ওস্তাদ বলে সবাই জানে। (শেখনিউজ ঐ অসভ্য লোকটির নাম লিখতে ঘৃণাবোধ করে বলেই নামটি লেখা হল না)। ইতিপূর্বে শাহবাগি আন্দোলনের সময় ও পরে এমনতর বহু অডিও বানিয়ে বিকৃত মানসিকতার লোকজনের মনোরঞ্জনও করেছে এরা। এখন এই সকল বিকৃত অসভ্য লোকজন আবারো মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এই বিষয়ে সহজ পথ হচ্ছে, সরকার খোন্দকার মোশারফের টেলিফোন কললিস্ট প্রকাশ করুক। যে সকল ফোন নম্বর দিয়ে কথা হয়েছে তার ডাটাবেজ প্রমান মিডিয়ায় প্রকাশ করুক। তারপর প্রমান হলে যে কোন আইনি ব্যবস্থা নিক; এটাই অভিজ্ঞ মহলের দাবী। নইলে এটিও বিরোধীদল দমনের জন্য সরকারের আরেকটি মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাত হিসেবেই জাতি তথা ভোটারদের কাছে বিবেচিত হবে। 

খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় খোন্দকার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন করেছেন দাউদকান্দি আসনে খন্দকার মোশাররফের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে ও দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন৷

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগটি পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি৷ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আমলে নিতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন দরকার। এরই মধ্যে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি৷ তাঁরাও উপরে যোগাযোগ করেছেন৷ আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও মামলা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই পর্যায়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তারের কোনো সুযোগ নেই৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না৷ মামলা হয়েছে, মামলা মামলার মতো চলবে৷

অভিজ্ঞ মহলের মতে যেহেতু বিষয়টি নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত; তাই নির্বাচন কমিশন এ বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নিয়ে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারে; যা তাদের যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মজবুত করবে; আর যদি তারাও সরকারের পদলেহি হিসেবে একই পথে প্রমানহীন ভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে চায় সেটিও জাতি পর্যবেক্ষণ করবে।  

Facebook Comments
SHARE