রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনাঃ হামলা পাল্টা হামলায় আগাচ্ছে নির্বাচনী প্রচার

226

শেখনিউজ রিপোর্টঃ প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিনের আগে থেকেই ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের ওপর হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কোন কোন স্থানে বিএনপির লোকজনের হামলায় আওয়ামী লীগের লোকজনও মারা পড়ছে; যা আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে বেগবান হবে হাজার গুন। ঐক্যফ্রন্টের নেতা  ড. কামাল হোসেন সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করবেন।

অন্যদিকে বেগম জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে চলছে এক উত্তেজনা।  হাইকোর্টের বিভক্ত রায়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ঝুলে গেলেও ৩য় বেঞ্চের দ্বারা অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শোনার অপেক্ষায় জাতি। যদিও কয়েকদিন পূর্বেই বিএনপি মহাসচিব হাইকোর্টের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন; যদিও তিনি কোন কিছুই খোলাসা করেন নাই। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে হাইকোর্ট ইতিপূর্বে যেভাবে শেখ হাসিনার সরকারকে সহায়তা দিয়েছে; হয়তো অদৃশ্য কারনে এখন তার উল্টোটাও ঘটতে পারে। 

ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা বুধবার সিলেটে যাবেন। মাজার জিয়ারতের পর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করে সিলেটে বিভিন্ন পথসভায় যোগদানের মধ্য দিয়ে নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন ।

তবে দেশব্যাপী যে সকল পুলিশ সদস্য ঐক্যফ্রন্টের উপর হামলা মামলা অব্যাহত রেখেছে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এরা সবাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কর্মী। আওয়ামী ঘরানার পুলিশদের সংখ্যাও কম নয়। এরা মূলত অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে সরকারী দলের লোকজনকে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে; যা সামলানোর ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। 

দেশব্যাপী এখনো নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বিরাজমান। শেখ হাসিনা তার জীবদ্দশায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নিজ পরিবার ও দলীয় নেতা কর্মীদের জীবনকে  নিরাপত্তাহিন করার মত অবস্থা মেনে নেবেন না। সেক্ষেত্রে ভারত যদি ঐক্যফ্রন্টের দ্বারা এমন কোন নিরাপত্তার গ্যারান্টি আদায় করে দিতে পারে তবেই স্বাভাবিক নির্বাচন হবে; নইলে হয় আওয়ামী জোট জিতবে না হয় নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে ‘জরুরী অবস্থা’ জারী হবে। 

জাতীয় পার্টির জেনারেল এরশাদকে নিয়ে হাসিনা মহলে অস্বস্তির কারনে তাকে সাইজ করে দিয়ে পুরো দলকেই কব্জা করে নিয়েছে সরকার। ভারত যে সময়ে জেনারেল এরশাদ ও কর্নেল অলি আহমদকে ডেকে নিয়ে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দিয়েছিল, সেই সময় থেকেই শেখ হাসিনা ওয়াকিবহাল হয়ে যান তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। শক্তিশালী করেন তার নিজের আভ্যন্তরীণ টিম। যদিও শর্ষের ভেতরেই যথেষ্ট ভূত বিদ্যমান। 

ডাঃ বদরুদ্দজা চৌধুরীকেও ভারতীয় সিগন্যাল দেয়া হলেও তার পুত্র মাহি বি চৌধুরী সরকারী প্রলোভন ও হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করতে না পারায় বিকল্প ধারা ঐক্যফ্রন্টের বাইরে চলে যায়। 

শেখ হাসিনার হিসেব হচ্ছে যে জনগণ এতো হত্যা, গুমের ভেতরেও একবারও ঘুরে দাড়ায় নাই; সেই জনগণ কাউকে ক্ষমতার ভাণ্ডার পাওয়ার রাস্তা করতে অন্তত জীবন দেবে না। তাই সে তার মত করে হয় নির্বাচন করে জয়লাভ অথবা নির্বাচন ভণ্ডুল করে ‘জরুরী অবস্থা’ জারী করে দেবেন। যদিও সেক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী তার পক্ষে থাকতে হবে; নইলে আরেকবার তার পরিবারকে দলসহ যে কোন পরিনতি মোকাবেলা করতে হতে পারে। 

প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত একাই যদি সব খেলা খেলে থাকে তবে অন্যরা কি করছে? কি করছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন পাকিস্তান, সৌদি আরব বা তুরস্ক ; বাংলাদেশে যাদের রয়েছে নানান স্বার্থ। শীঘ্রই এদের স্বার্থের অনুকুলে বক্তব্য আশা শুরু হবে; শুরু হচ্ছে আরও কয়েক ধাপের গোপন খেলা।  

Facebook Comments

Hits: 19

SHARE