ভারত কি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করেছে? (২)

241

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ পুরো দেশে এখন টান টান উত্তেজনা, প্রতিটি চায়ের টেবিলে, আড্ডায় একই আলোচনা, নির্বাচন কি আদৌ হবে? ইতিমধ্যেই বিএনপির কয়েক নেতা নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্তরা হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন; বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টিও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থিতা আপীলে জুটেছে প্রায় ৫০ শতাংশের উপরে। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ জয়লাভ করতে যাচ্ছে এমন একটি আবহ তৈরি হয়ে গেছে। সন্দেহটা এখানেই, ভারত কি এমন একটি ডিজিটাল আবহ বানিয়ে জাতিকে বোকা বানাচ্ছে নাকি শেখ হাসিনা গংকে ধোঁকা দিচ্ছে? 

তবে নির্বাচন হবে কি হবে না এমন আলোচনাও প্রতিটি ঘরে ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে; এর একটাই কারন মানুষের মধ্যে ভয় আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিরাজমান অবিশ্বাস। দলগুলোর মধ্যে একধরনের আপোষ করে চলার ভাব, বিশ্বাস নেই, বিশ্বাস নেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এমনকি দলের প্রধানকেও।  এ অবস্থা শুধু আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতেই নয়; ছোট বড় সকল দলেই বিরাজমান।  তাইতো নেতা যখন আসল বা নকল অপকর্মের জন্য আইনি/বেআইনি কারনে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে তখন তার বিকল্প দেয়া হয় তার স্ত্রী বা সন্তানকে; কোন ত্যাগী দলীয় নেতাকেই বিশ্বাস করা হয় না। কারন এখানে বানিজ্য বিদ্যমান। 

যাক আসি নির্বাচনের বিষয়ে; যথাসময়ে নির্বাচন হবে কিনা? আমার বিশ্বাস নির্বাচন হবে যদি শেখ হাসিনা যতক্ষণ জানবেন যে তার দল জিতবে; আর উল্টো কথা হচ্ছে সেনাবাহিনী যদি ভোট কেন্দ্রগুলো নিরাপদ করে দিতে পারে তবে  স্রোতের মত ভোটার কেন্দ্রে হাজির হবে। আর ফলাফল হচ্ছে, শেখ হাসিনার ভরাডুবি। এই ক্ষেত্রে ভারত ডাবল গেম খেলছে। সে যে কার জন্য খেলছে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। উপর মহলে প্রচারনার মত করে কিছু চমক দেখানো বিষয় হচ্ছে; কিন্তু পুরো দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন হয়নি।  তাই ভারতকে বিশ্বাস করে আসলে কে ঠকতে যাচ্ছে সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। 

তবে জাতীয়তাবাদীরা বাংলাদেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠুক, আর ভারতের ভেতরে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীগুলোর জাতিয়তাবোধ আরও জাগ্রত হোক এটি ভারত চাইবে বলে আমি বিশ্বাস করি না; তেমনি বার্মার বিষয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের যে গেম বানানো হয়েছে; সে গেম এ ভারত বিপক্ষের খেলোয়াড়। বার্মাকে সাইজ করতে পারলে চীনকে নিয়ন্ত্রন করা অনেকটা আছান হবে এই পরিকল্পনায় এই অঞ্চলে এক গভীর চক্রান্ত ঘুরপাক খাচ্ছে; যেটি সফল হলে লাখ লাখ বাংলাদেশির তাজা রক্ত ঝরবে এই ব-দ্বীপে।

সেক্ষেত্রে ভারতের জন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে শেখ হাসিনা যে আমেরিকার পরিকল্পনায় বাঁধা দেবে। যদিও আমেরিকার এই পরিকল্পনা চীন এর বিরুদ্ধে; কিন্তু এই অঞ্চলে আমেরিকানদের কোন যুদ্ধ শুরু করার মানেই হচ্ছে ভারত ভেঙ্গে যাওয়ার পথ খুলে যাওয়া। আর ভারত সে রিস্ক নেবে বলে মনে হয় না। তাই শেখ হাসিনাকে সরিয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করবে নাকি শেখ হাসিনাকে রেখেই নিজেদের নিরাপদ রাখবে, সেই সিদ্ধান্তের উপর আমাদের নির্বাচনের ফল নির্ভর করছে বলেই অনেকেই মনে করেন। তবে সে জন্য ভারত উভয় পক্ষকে নিয়েই বোকা ভেবে ধোঁকা দিচ্ছে কিনা জাতির সজাগ থাকা উচিত। 

যদিও এই জাতির আর সজাগ থেকেই বা কি লাভ? জাতি আসলে কখন কি কাকে চায় সে নিজেও জানে না; পুরো একটা কনফিউজড জাতি; তাইতো পেছনের সময়ে ভয়কে জয় করতে না পারলেও নির্বাচনের দিন ভয়কে জয় করতে পারবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। তবে ভয়কে জয় করুক আর না করুক; এই নির্বাচনে যেই জিতুক- আসলে জিতবে ভারত; হারবে বাংলাদেশ। 

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

 

Facebook Comments
SHARE