ভারত কি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করেছে? (১)

432

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ একের পর এক নির্বাচনী রাজনৈতিক চমক যেভাবে আগাচ্ছে তাতে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন সন্দেহজনক হয়ে পড়ছে। নিজেদের প্রভাব বাংলাদেশে বহাল ও নিরাপদ রাখতেই ভারত এ কাজটি করছে সঙ্গোপনে, যা আমি আগেও বলেছি; সম্প্রতি ওবায়দুল কাদেরের সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে যাওয়ার খায়েশ এবং ইতিমধ্যেই বাতিলকৃত ১৬০ জনের মধ্যে ৮০ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়েও দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ভারতপন্থি নামে চিহ্নিত সরকারী নেতারা হঠাৎ চুপ মেরে গিয়েছেন।  অন্যান্য আরও ঘটনার সাথে এ বিষয়গুলোর যোগফল শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে অনেকটাই নিশ্চিত করে দিচ্ছে। 

বেশ কিছু আগের কথা ভারতীয় একটি অপ্রত্যাশিত লবি আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল বিএনপির একজন নেতার সাথে তারা গোপনে বৈঠক করতে চায় এবং তারা নিশ্চয়তা দিতে চায় যে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে তাদের বানানো জোটের মাধ্যমে।  পরবর্তীতে কি হয়েছিল জানি না, আমি সেই নেতার কাছ থেকে নেগেটিভ সাড়া পাওয়ায় আমিও আর আগাইনি। এমনিতেও আমি চাইনি ভারতের হাত ধরে জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় আসুক। আসলে আদর্শিক ও জনগণের ইচ্ছায় আসুক। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সুত্রের জানতে পারছি, ভিন্ন রুটে সেই নেগোশিয়েশন কাজে লেগেছে। অপ্রত্যাশিত লবিটির কাজ সার্থক হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। একদিকে ভারতীয়দের খাস আমলা ও বাহিনীর লোকজনকেই ভারত কাজে লাগাচ্ছে; অন্যদিকে ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্যজোট’ও তাদের সক্ষমতা প্রমান করতে পারছে।

তবে এজন্য বিএনপিকে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়েছে; প্রথমত বেগম জিয়া বা তারেক রহমান সরকার ও সংসদের বাইরে থাকবেন; সরকার পরিচালিত হবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে তবে প্রাধান্য থাকবে পুরোটাই ভারতপন্থীদের হাতে। আওয়ামী সরকারে ভারতের যে সকল অতি বিশ্বস্ত লোকজন আছেন তাদের ও তাদের লোকজনকে রক্ষা করার কাজটি নির্বাচিত সরকার করবে; শেখ হাসিনার সরকার যেভাবে ঢালাও গ্রেপ্তার হত্যা, গুম করেছে তা হবে না। যদিও নির্বাচনী ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে অনেক কিছুই থাকবে।

আমরা অনেকেই জানিনা বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার একসময় জাসদের লোক ছিলেন; আর জাসদের পুরনো লোকজন মানেই ভারতের বিশ্বস্ত লোক। তাই শেখ হাসিনা নয় তার প্রথম প্রভু হচ্ছে ভারত এমনটাই শোনা যায়। আর সেনাবাহিনীকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নামালেও তারা যদি নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ করে দেয় তবে ভোট দিতে মানুষের ঢলই শেখ হাসিনার সরকারের প্রাপ্তিতে লজ্জা এনে দেবে। কিছু কিছু সুত্র দাবী করেছে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কম্যান্ডগুলোকে এইভাবে সাজানো হয়েছে ভারতের গোপন ইচ্ছায়।

আমি আগেও লিখেছি, শেখ হাসিনা ভারতের ভবিষ্যৎ সটকে পড়াকে মাথায় রেখেই তার প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, বিচারবিভাগ, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, মাফিয়া গ্রুপ, এবং সর্বপরি প্রান্তিক লেভেল পর্যন্ত দলীয় লোকজনকে টাকা বানানোর মওকা দিয়ে সবাইকে অপরাধী বানিয়ে রেখেছেন, যাতে কেউই তাকে ছেড়ে যেতে না পারে; তারা তাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই শেখ হাসিনার সরকারকে রক্ষা করবে।  কিন্তু বাংলাদেশের সমতলভূমিকে নিজের অস্তিত্বের স্বার্থে প্রয়োজন বিধায় ভারত আর বেশি রিস্ক নেবে বলে মনে হয় না। কারন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ সামনের দিকেই আগায়! (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Facebook Comments
SHARE