শামীম ওসমান এবার গাল ফোলা কামাইল্যা বলেননি! বলেছেন চাচা !!

451

রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী: নারায়নগঞ্জের শামীম ওসমান সাহেব বিভিন্ন কারণে আলোচিত এবং সমালোচিত। তবে বেশী আলোচিত হয়েছিলেন ৭১ টিভিতে যখন নারায়নগঞ্জের মেয়র আইভী রহমানকে ধমক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আইভী রহমান নাকি কথা বলতে জানেননা, প্রশ্ন হচ্ছে শামীম ওসমান সাহেব কথা বলতে জানেন? তিনি আইভী রহমানকে বলেছিলেন কাপড়—–কথা বলে, যৌবনে কার সাথে নাকি পালিয়ে গিয়েছিলেন আইভী—– ইত্যাদি। আইভী ও কম বলেননি, তাকে সরাসরি গড ফাদার বলেছিলেন। সাহস আছে মহিলার। আমি সেই বক্তব্যটি ফেইস বুকের বদৌলতে দেখেছিলাম। আরো একটি বক্তব্য শুনেছিলাম শামীম ওসমান সাহেবের, সেখানে তিনি ডঃ কামাল হোসেন সাহেবকে গাল ফোলা কামাইল্যা বলেছিলেন। 

সে বক্তব্যটি খুবই দৃষ্টিকটু ছিল, তিনি যে ভঙ্গিতে বক্তব্য রেখেছিলেন মনে হয়েছিল গায়ে শুধু তারই শক্তি আছে আর যেনো কারো নেই। সেই বক্তব্য দেখে মনে হয়েছিল, আমি ছুটে যাই বাংলাদেশে, ছুটে যাই নারায়নগঞ্জে, গিয়ে বলি শামীম ওসমান সাহেব শরীরে কি শুধু আপনার শক্তি? আমার নেই? আসুন আপনি যখন বলেছেন খেলা হবে, তাহলে আসুন খেলি, কিন্তু আমি পারিনা। আমি তো শামীম ওসমান সাহেব হতে পারিনা। শুনেছি শামীম ওসমান সাহেবের পরিবার নাকি বনেদি পরিবার। বনেদি পরিবারের লোক হয়ে বাবার বয়সী কামাল হোসেন সাহেবকে কি করে বলেন তিনি গাল ফোলা কামাইল্যা? অ

বশ্য এসব বক্তব্য শামীম ওসমান সাহেবের নিজের নয়, তাকে বিভিন্ন-ভাবে বলা হয় তুমি এ রকম বক্তব্য দাও। তিনি আরেকবার সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেখানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ওলি আউলিয়ার সাথে তুলনা করেছিলেন। তা ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদককে ধোলাই দিতে গিয়ে পুরো সাংবাদিক সমাজকে তিনি ধোলাই দিয়েছিলেন। আরো আছে তিনি নারায়নগঞ্জের এক মিটিংএ কবরী সরওয়ার এর দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন মার দিতে। তিনি মনে হয় অবালা নারীদের সাথে রাগারাগি করতে ভালোবাসেন। অবশ্য কে কখন কার মাউথপীস হিসেবে কথা বলে তা সহজেই বুঝা যায়।

ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে একবার আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল সাহেবকে কারা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছিল সেটির খবর অনেকেই জানেন। কোথাথেকে কার নির্দেশে সেটি করানো হয়েছিল আমি তার সব কিছুই পরবর্তীতে জেনেছিলাম। আমাকে ঢাকা থেকে আমার এক আত্নীয় বলেছিলেন, আপনি ব্যাপারটি একটু দেখুন। কি দেখবো? হাইকমান্ড থেকে যখন বলা হয়, জলিল সাহেবকে একটু সাইজ করে দাও, পুরস্কার পাবে তখন কি বলার থাকে? এটি শুধু যে আওয়ামীলীগের চর্চা হয়, তা কিন্তু না। সমানভাবে বিএনপিতেও হয়। বঙ্গবন্ধুর ছবি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নামিয়ে রাস্তায় নিয়ে ভাঙ্গচুর করার দৃশ্য আমি টেলিভিশনে দেখেছি। আমি ভেবেছিলাম, হয়তোবা বিএনপির হাইকমান্ড থেকে এ ব্যাপারে একটি ব্যবস্থা নেয়া হবে, অন্তত নেতা কর্মীদেরকে ডেকে তারেক রহমান সাহেব জিজ্ঞাস করবেন, কেন এটা করা হলো? কিন্তু না কেউই জিজ্ঞাস করেনি। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যেভাবে যে ভাষায় কথা বলা হয় তাতে আমি লজ্জিত হই। যারা বলেন, তারা লজ্জিত হন কি-না আমি জানিনা।

গত কিছুদিন থেকে আমি লক্ষ্য করছি, লন্ডনে কিছু সংখ্যক দলীয় লেখক কলামিষ্ট সুলতান মনসুর, মান্না, বাঘা সিদ্দিকী ডঃ রেজা কিবরিয়া সহ যারা ঐক্য ফ্রন্টে গিয়েছেন, তাদেরকে কুলাঙ্গার বলে গালি দিচ্ছেন। আমাকে একজন কুলাঙ্গারের মানে কি বুঝিয়ে দিলেন, তাকে যখন আমি স্বরণ করিয়ে দিয়েছিলাম আপনি তো এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগে যোগদান করেছিলেন তখন যদি কেউ আপনাকে এ ভাষায় গালি দিত তাহলে আপনি কি বলতেন? তিনি সেদিন কেন ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন? কোন প্রেক্ষাপটে যোগ দিয়েছিলেন? তা আমাকে বুঝাতে লাগলেন। আমি অবশ্য তার কথা শুনতে মোটেই আগ্রহী ছিলামনা।

একজন মানুষ দল বদল করতেই পারে, আওয়ামীলীগের সাথে আমার বনিবনা না হলে আমি কি করবো? বিএনপির সাথে আমার বনিবনা না হলে আমার কি-করার আছে? আমি দল বদল করবো। ব্যবসা যদি একটা না হয় তাহলে আরেকটা করতে হবে। স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হলে মানুষ তালাক দেয়। তালাকের সিষ্টেম রয়েছে। আদিকাল থেকেই সেটির প্রচলন রয়েছে। তালাক দিয়ে আরেকটি বিয়ে করতে পারে। আমি তো সেখানে দোষের কিছুই দেখিনা। সুলতান মনসুর সাহেব তো অনেক ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছেন। ১০/১২ বছর একজন লোককে বসিয়ে রাখা হলো, তার অপরাধ কি? তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী ছিলেন! আওয়ামীলীগের আর কেউ সংস্কারপন্থি ছিলনা? তোফায়েল আহমদ, আমীর হোসেন আমু সাহেব সংস্কারপন্থী ছিলেন না? মান্না সাহেরেব অপরাধ কি ছিল? আপনার ক্ষমতা আছে বলেই আপনি দিনের পর দিন একজন কে শাস্তি দিবেন আর সে তা মাথা পেতে নিবে?

১২ বছর পর সুলতান মনসুর আজ বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন তাতেই আওয়ামলীগের পেইড লেখকদের গাত্রদাহ হচ্ছে কেন? কে আপনাদেরকে গালি দেয়ার রাইট দিয়েছে? শামীম ওসমান সাহেবকে কে বলেছিল গাল ফুলা কামাইল্যা বলার জন্য? আমরা সবই জানি। আজ কেন এত সমীহ করে শামীম ওসমান বক্তব্য রাখেন? তিনি তার নির্বাচনী মনোয়ন দাখিল করে সাংবাদিকদের সামনে এসে বলেছেন তার বন্ধুর প্রশ্নের জবাব তিনি দিতে পারেননি। কি প্রশ্ন ? কামাল হোসেন সাহেব নাকি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়েছেন, কামাল হোসেন সাহেব নাকি তার বাবার বয়সী তিনি তাকে চাচা ডাকেন! আমি তার এবারের বক্তব্য শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলাম। আমার ছেলে আমাকে জিজ্ঞাস করে বাবা ঠিক আছো, বলেছিলাম ঠিক আছি। ছেলে প্রশ্ন করে কেন এভাবে হাসছো? বলেছিলাম দেখ শামীম ওসমান সাহেব কি বলে! ছেলে বলে তিনি তো সুন্দর কথাই বলেছেন তাকে আরেকটি বক্তব্য শুনাই যেটিতে তিনি গাল ফোলা কামাইল্যা বলেছেন আমার ছেলে বিরক্ত হয়, জিজ্ঞাস করে উনি কি নেতা উনি কি রাজনীতি করেন? তার বডি ল্যংগুয়েজ তো বলেনা তিনি রাজনীতি করেন।

সে যাক, একটা মানুষকে যদি আপনি দিনের পর দিন আঘাত করেন, মেয়ের জামাইকে যদি জেলে দেন, সংসদে দাঁড়িয়ে যদি বলেন কামাল হোসেন সাহেবের মেয়ের জামাই ইহুদী আর আমার ছেলের বউ খৃষ্টান, আচ্ছা ইহুদী আর খৃষ্টানদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? সিলেটি ভাষায় একটি ডায়লগ আছে ”ইজলে বরনরে বাছইন তার মাঝে কি সেম ডেম আছইন” কে কাকে বিচার করবে? সবাই তো একই পথের পথিক! আপনার ছেলের বউ খৃষ্টান। তাতে কি হয়েছে কামাল হোসেন সাহেব কি কখনো কিছু বলেছেন? আমি অনেকবার আমার টক শো-তে কামাল সাহেবকে এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে তার মতামত জানার চেষ্টা করেছি তিনি বলেছেন, ওসব নিয়ে প্রশ্ন করবেন না।

একবার তারেক রহমান সাহেব লন্ডনে বলেছিলেন বঙ্গববন্ধু রাজাকার, জিয়াউর রহমান সাহেব বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, আপনার বক্তব্য বলুন, তিনি কিছু বলেননি, প্রোগ্রাম পরে বলেছিলেন তারেক রহমান ছেলে মানুষ তাকে নিয়ে আমি কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য করতে পারিনা। তদ্রুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কেও আমি কথা বলেছি তিনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি কথাও বলেননি। আজ পর্যন্ত কোনো আজে বাজে কথা কামাল হোসেন সাহেবের মুখে আমি শুনিনি।

এই যে আন্দোলন, এই যে সংলাপ, কামাল সাহেব কি কোনো বাজে কথা বলেছেন? ফাজলামী কারা করে দিনের পর দিন? সংলাপে যাওয়ার পর খাওয়ার ছবি কে প্রচার করেছিল? কে ফেইসবুকে ভাইরাল করেছিল এসব? কামাল হোসেন সাহেব আর কিছু না হলেও তো তিনি এ জাতীর সিনিয়র সিটিজেন, এই সিটেজেনকে আপনি শ্রদ্ধা করা দুরে থাক দিনের পর দিন আজে বাজে কথা বলছেন? স্বার্থের কারণে এত অন্ধ হয়ে যাবেন?

আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না গেলে নাকি দেশ ৩০ বছর পিছিয়ে যাবে, আর কত ফালতু কথা শুনবো এ জীবনে? দুর্নীতি সমাজের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে। আওয়ামলীগ ক্ষমতায় না থাকলে কিছুই হবেনা। দেশ তার আপন গতিতে চলবে। কামাল হোসেন সাহেবরা কি চান? তারা চান ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন। এই নির্বাচন কমিশনার কে দিয়ে ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন হবেনা। এটা পানির মত পরিস্কার। নির্বাচন কমিশনার সাহেব নিজেই তো আওয়ামীলীগ। তাকে ——দিয়ে সরান।

নতুন খবর কি? বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ডঃ ফরাস উদ্দিন সাহেব বলেছেন দেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। ২০০৯-২০১৩ সালে। কে ক্ষমতায়? কে তথ্য দিচ্ছেন এসব? ফরাস উদ্দিন সাহেব যা বলেছেন তা যদি সত্য হয় তাহলে কি জবাব দিবে আওয়ামীলীগের পেইড লেখক সাংবাদিকরা।

প্রিয় পাঠক, রাজনীতিতে শিষ্টাচার শালীনতা যদি না থাকে তাহলে আপনি রাজনীতি কি করে করবেন? সিলেটের খবর কি? ফেসবুকে দেখলাম বিএনপির ইনাম আহমদ চৌধুরী সাহেব মুহিত সাহেবের সাথে দেখা করতে তাদের বাসায় উপস্থিত হয়েছেন। এটাই হওয়া উচিৎ। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা যদি না থাকে তাহলে কিছুই করা সম্ভব হবেনা। বাংলাদেশের অবস্থা হয়েছে উল্টো। সাহেব যদি কিছু বলেন তাহলে মোসাহেবরা আরো গরম হয়ে উঠে। আমি ভেবে পাইনা সুলতান মনসুর সাহবকে, মান্না সাহেবকে, ডঃ রেজা কিবরিয়া সাহেবকে সর্বোপোরি কামাল হোসেন সাহেবকে কি করে গালি দেয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে নাকি তারা গালি দেয়। ডঃ রেজা কিবরিয়া নাকি তার বাবার খুনীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন, আজ কত বছর ধরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়, কিবরীয়া সাহেবের হত্যার বিচার করেনি কেন সরকার? সেদিন রেজা কিবরিয়া সাহেব বলেছেন তার মাকে নাকি আওয়ামীলীগের কোন এক নেতা মজিদ নাম সে নাকি হুমকী দিয়েছে।  বলেছে বিচার যতটুকু হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকার জন্য।

রেজা কিবরিয়া যদি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন আর যদি তিনি খুনীদের সাথে হাত মিলান, আমি যদি সবিনয়ে প্রশ্ন করি আওয়ামী লীগের পেইড লেখক সাংবাদিকদের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তো ইনু সাহেবের সাথে হাত মিলিয়েছেন শুধু হাত মিলাননি তাকে তথ্য মন্ত্রীর মত একটি গুরুত্ব পূর্ণ মন্ত্রানালয়ের দায়িত্বও দিয়েছেন। কে এই ইনু সাহেব? যিনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ট্যংকে উঠে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। মতিয়া চৌধুরী কে? তিনি কি মন্তব্য করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ? তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে তিনি ডুগডুগি বাজাবেন! আমি অন্ধ, বধির আওয়ামীলীগের পেইড লেখক সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শেষ কথা হচ্ছে, আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জনাব উবায়দুল কাদের সাহেবের বড় শখ ঐক্যফ্রন্ট যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে কে হবে প্রধানমন্ত্রী এটি জানতে। নির্বাচনে যদি ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আঠকাবে? শ্রদ্ধেয় উবায়দুল কাদের সাহেবকে বলি আপনি ঐক্যফ্রন্টের দিকে না থাকিয়ে আপনি বদীর স্ত্রীর দিকে তাকান ভালো হবে, আপনি বদির স্ত্রীকে সময় দেন ভদ্র মহিলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তাকে পাশ করিয়ে আনার দায়িত্ব আপনার। বদি সাহেব ইসলামের কাজে উমরা হজ্বে। ভদ্রমহিলা তো একা। কে সহযোগিতা করবে? এত কিছুর পরও উবায়দুল কাদের সাহেব বদি সাহেবকে ভূলতে পারেননা। বদি সাহেব মনোয়ন না পেলে কি হবে বদি সাহেবের স্ত্রী তো পেয়েছেন।

উবায়দুল কাদের ভাই জিন্দাবাদ, বদিভাই জিন্দাবাদ, বদীভাবী জিন্দাবাদ।  ইয়াবা ভাই জিন্দাবাদ।  জয় বাংলা।  জয় ইয়াবা, জয় হোক ইয়াবা ব্যবসায়িদের।

লেখক: সভাপতি, ইউকে বাংলা প্রেসক্লাব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই ইউরোপ

Facebook Comments

Hits: 97

SHARE