তাবলীগে আন্তঃ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বেঁচে গেল ইসলাম!

363

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ঢাকায় তাবলীগের দুই গ্রুপের লড়াইয়ে কারনে শত শত আহত হয়েছে; নিহত হয়েছে ১ জন। কারন নেতৃত্ব। একপক্ষ ভারতীয় আমীরের পক্ষে আরেকপক্ষ বাংলাদেশী।  তবে ভবিষ্যতে গরীবের হজ্বের নামে আলাদা বিশ্ব জমায়েতের এক কুফুরি চালুর হাত থেকে বেঁচে গেল ইসলাম।  ইতিমধ্যেই প্রচারিত হওয়া শুরু করেছিল ২য় বৃহত্তম মুসলিম জমায়েত; আশংকা ছিল ভবিষ্যতে কোন এক সময় এটিকে বিকল্প হজ্ব হিসেবে ঘোষণা দেয়ার।  সেই ভাবেই আগাচ্ছিল সকল কাজ, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের চিন্তার অগোচরে। কিন্তু মহান আল্লাহ সেই সম্ভাবনা থেকে মুসলমানদের রক্ষা করলেন বলেই ইসলামী চিন্তাবিদদের অভিমত। 

দিল্লীতে তাবলীগ জামায়াতের সূতিকাগার হলেও চারণভূমি হিসেবে কৌশলে বেছে নেয়া হয় বাংলাদেশকে; কারন এখানে ধর্মপ্রান মুসলমানদের ইসলামী চেতনা অনেক মজবুত। বাংলাদেশী মুসলমান যে ইতিমধ্যেই বিপথে চলে গেছে সেও আল্লাহ এবং রাসুলের বিরুদ্ধে বা ধর্ম অবমাননাকে সহ্য করে না। এমনকি ইসলামের ও মুসলমানদের উপর আঘাতের সময়ে নিজেকে উৎসর্গ করে দেয় তারা অনেকেই। সেইরকম এক ভুমিতে ধীরে ধীরে তাবলীগ জামায়াতকে বাংলাদেশের গরীব মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিকে পুঁজি করে বিস্তার করা হয়। চিল্লা, দাওয়াত ইবাদাত, শিক্ষা এই পর্যায়গুলো ভালই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে টঙ্গীকে ঘিরে মক্কার আদলে জমায়েতের নকশা শুরু হয়। এটাই ছিল ইসলামী চিন্তাবিদদের দুঃশ্চিতার কারন। অবশেষে আল্লাহ তার ফয়সালা দিলেন।

গত কয়েক বছর ধরে তাবলিগ জামায়াতের নেতৃত্ব নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়৷ একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্দলভী এবং আরেক অংশের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের আহমেদ৷ সাদ দেওবন্দ বিরোধী এবং জুবায়ের দেওবন্দপন্থি৷ মাওলানা জুবায়েরের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের হেফাজত ও কওমীপন্থিরা৷ গত বছর ইজতেমায় মাওলানা সাদ ঢাকায় আসলেও তাকে ফিরে যেতে হয়৷

এবার মাওলানা সাদের অনুসারীরা ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন৷ অন্যদিকে, মাওলানা জুবায়েরপন্থিরা ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন৷ ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক সভাকে বলা হয় জোড় ইজতেমা৷ মাওলানা সাদের অনুসারীরা ৭ ডিসেম্বর এই জোড় ইজতেমার আয়োজন করেছিল টঙ্গির ইজতেমা মাঠে৷ আর মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ১১ ডিসম্বর৷  কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গত মাসে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেন – যেখানে ওই তারিখে ইজতেমা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্নি মুসলমানদের বৃহত্তম সংগঠন এই তাবলীগ জামাতের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব প্রথম প্রকাশ্য রূপ পায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে – যখন তাদের মূল কেন্দ্র কাকরাইলে দুই দল কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর পর এ বছর জুলাই মাসে ঢাকায় কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী’র উপস্থিতিতে তাবলীগ জামাতের একাংশের এক সম্মেলন হয় । এতে সাদ কান্দালভিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তবলীগ জামাতের প্রধান দফতর কাকরাইল মসজিদেই অবস্থান করছেন, কিন্তু কার্যক্রম চালাচ্ছেন আলাদা আলাদা ভাবে। কান্দালভির সমর্থক গোষ্ঠীর মতে, তাবলীগ জামাতের ৯০ শতাংশই ‘নিজামুদ্দিন মারকাজ’ বা সা’দ কান্দালভির অনুসারী হিসেবেই আছেন।  তার বিরোধীদের পেছনে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের লোকেরা সক্রিয় হলেও হেফাজতের নেতারা তা স্বীকার করেন না।

কয়েকদিন ধরেই সাদ গ্রুপের মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের চারপাশ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পশ্চিম লেনে অবস্থান নেন। এতে ওই লেনে যানবাহন চলাচল বিঘ্ন হয়।  তখন জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা মাঠের আশপাশের গ্রামে অবস্থান নেয়৷ তারা এদিকে সাদপন্থিরা ইজতেমা মাঠে ঢোকার সব পথ বন্ধ করে দেয়৷ শনিবার ফজরের নামাজের পর জুবায়েরপন্থিরা ইজতেমা মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে জড়ো হলে দুই পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে৷ দুই পক্ষের কয়েক হাজার মুসল্লির মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে দুপুর পর্যন্ত৷ সংঘর্ষে দু’শরও বেশি মুসল্লি আহত এবং সংঘর্ষে ইসমাইল হোসেন (৭০) নামের একজন নিহত হন বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।  রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মুসল্লিদের টঙ্গী হাসপাতালে আনা হয়।  সেখান থেকে গুরুত্বর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, দুপর ১টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন৷ তিনটার পর থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের সদস্যরাই ইজতেমা মাঠ এবং আশপাশের এলাকা ছেড়ে চলে যায়৷ তখন ঢাকার এয়ারপোর্ট এলাকায়ও এক গ্রুপের সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়৷ ওই সময় র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহলও চলে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাবলিগের দুই গ্রুপের মুরব্বিদের সঙ্গে বেঠকও করেছেন৷  তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব নিরসনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধলভিপন্থি বাংলাদেশে তাবলিগের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং কওমিপন্থি মাওলানা জুবায়ের অনুসারী তাবলিগের উপদেষ্টা মাওলানা আশরাফ আলী ও আবদুল কুদ্দুসসহ নেতারা। এ ছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘‘নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের ইজতেমা হবেনা৷” তিনি সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এই ভাবেই আপাততঃ একটি সম্ভাব্য কুফরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে মুসলমানগন রক্ষা পেলেন।  ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে মক্কার বাইরে হজ্বের সমতুল্য করে বা ২য় অবস্থান বানিয়ে কন স্থায়ী জমায়েতের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বিকল্প হজ্ব বা গরীবের হজ্বের নামে মুসলমানদের কুফরির পথে নিয়ে যাবে।

Facebook Comments

Hits: 34

SHARE