কেন সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা?

369

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ সরকার সমর্থিত একটি অনলাইন মিডিয়ায় দেখলাম, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক দেড়শ কর্মকর্তা নামছেন নৌকার পক্ষে’ শিরোনামে একটি সংবাদ। এই সংবাদের মধ্যেই এমনভাবে লেখা হয়েছে যেন এটি আসলে কয়েকদিন পূর্বে গণফোরামে ১০ জন সাবেক সেনা অফিসারের যোগ দেয়ার পাল্টা শোডাউন। আর এমনও লেখা হয়েছে গণফোরামে যোগ দেয়ারা হচ্ছে ছোট মোট অফিসার, নৌকার পক্ষে যারা নেমেছে এরা হচ্ছে বিশাল বিশাল অফিসার।  ভাবছি দেশে সেনাবাহিনী নামটাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে করে আর কত নিচে নামাবে এই রাজনীতিকরা। আমরা যদিও রাজনীতিকদের ইচ্ছের প্রতিফলন দেখি; শুধু দেখিনা জনগণের ইচ্ছের প্রতিফলন।

জনগণ আসলে কি চায়? আর জনগণ আসলেই কি নিজেরা জানে যে তারা কি চায়? বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর বিদ্রোহে ভরপুর, স্বাধীনচেতা ইত্যাদি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা; কিন্তু আজকের বাংলাদেশের বা পুরো বাংলার জনগণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে আমি নিজে বেকুব, জানি না আমার মত এতো বেকুব আর কোন রাজনীতিবিদ হন কিনা। আসলে তারা বেকুব হন না বলেই জনগনকেই বেকুব বানান অবলীলায়! জনগণের যদি সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেরাই ইচ্ছুক হতো রাজনৈতিক দলগুলো কি পারতো তাদের খেয়াল খুশি মত এজেন্ডা বানাতে? অসম্ভব। তাইতো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাত থেকে মুক্তির জন্য চিল্লাপাল্লা করলেও সেনাবাহিনী আর ফিরে তাকায় না; কোন রিস্ক নেয়ার মত ঘটনায় নিজেদের জড়ায় না।

এই জনগনকে মুক্তি দিতে যদি আজকে সশস্ত্র বাহিনী নেমে আসে; ঠিক এক বছর না পেরোতেই এই জনগণ রাস্তায় নেমে পড়বে দুর্বৃত্তদের মুক্তির আন্দোলনে। মুখোমুখি দাঁড়াবে সশস্ত্র বাহিনী আর জনতা। তাই জাতির পালস আমার মত সশস্ত্র বাহিনীও বুঝে গেছে, তাই তারা এখন দুধের সরটুকু খায়; আর হাসের মত রাজনীতিবিদেরা খায় দুধটুকু, পানি খায় জাতি। এ জাতির আরও অনেক পানি ঘোলা করে খাওয়া বাকী আছে; যে জাতি তার ছোট ছোট সন্তানদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে রাস্তায় নামে না; সে জাতি তার ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগী হবে কেন? আর সেই জাতির জন্য রিস্ক নেবে কে? এমন বোকা কয়জন আছে?

শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষায় ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে একটা দেশ স্বাধীন করেছে; সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে কয়টা লাশ পড়েছে রাজপথে, কয়জন গুম হয়েছে, কয়জন জেলে গেছে? আর স্বাধিনতার সোনার ডিম এনে কয়জন রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, জেলে গেছে? এই তুলনাটা পাকিস্তানের পক্ষে করার জন্য নয়, করেছি স্বাধীনতা নামের এই অশ্বডিম্বের চিত্র বুঝানোর জন্য।  এদেশের বিপ্লবী নেতারা যেভাবে স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, সেভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধ হলে আজকে এমন রাষ্ট্র হতো না; আর হতো না এমন রাজনীতিবিদের বহর আর জাতীয় চরিত্র। কিন্তু কে বুঝবে? এদেশ এখন কে কিভাবে শাসন শোষণ করবে সেই খেলায় ব্যস্ত। জাতি বোঝে না খাটাশ বুড়ো হলেও চরিত্র পাল্টায় না; জোর কমে মাত্র।

আজকে শেষ প্রশ্নটা জাতিকে করছি, আপনারা যতই নাচানাচি করেন, পারবেন স্বৈরশাসন দূরীভূত করতে? পারবেন না! কারন বড়দলগুলোর যে কয়জন প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে, এদের মধ্যে পারলে ১০ জন সৎ লোকের তালিকা করে লিখবেন এই এই কারনে এরা সৎ! আর সেই সাথে ১০ জন জেনারেল, ১০ জন সচিব, ১০ জন সিনিয়র পুলিশ অফিসার, ১০ জন বিচারপতি, ১০ জন নামী ব্যবসায়ীসহ ইত্যাদি পেশার ১০ জন করে সৎ মানুষের তালিকা করবেন। যদি দেখেন যে এই তালিকা করা সম্ভব হয়েছে; তবে সামনে আগাতে পারবেন। নইলে? আরও জিল্লত আপনাদের কপালে আছে, খামাখা সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা রেখে লাভ নেই!

নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয়লাভ নিশ্চিত হলেই কেবল নির্বাচন হবে নইলে না। কারন পরাজয়ে যে রক্তগঙ্গা বইবে তা ঠেকানোর সাধ্য ভারতেরও নাই।  তবে বিধাতা তার বিধি মোতাবেক সবই ঠিক করে রেখেছেন, বাংলাদেশে এখন ধর্মীয় এক সঙ্ঘাতের প্লট তৈরি করাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত; সেই প্লট থেকে বাঁচবেন কিভাবে; আপনার সশস্ত্র বাহিনী আপনাদের বাঁচাবে কিনা সেটার জন্য অপেক্ষা করুন।

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

 

Facebook Comments

Hits: 31

SHARE