মন্ত্রী ইনু সমর্থিত বালুচদের চীনা কনস্যুলেটে হামলা রুখেছে মহিলা এএসপি সুহাই

244

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বাংলাদেশ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বালুচিস্তান বিষয়ক নীতি ঘোষণা করবে এবং বালুচিস্তানের সংগ্রামকে সমর্থন জানাবে, দিল্লীতে মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ঘোষণা দেয়ার পর থেকে সংগঠিত হওয়া ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ নামের একটি সশস্ত্র সংগঠন করাচিতে চীনের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়েছে।  হামলায় অন্তত দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ এক নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে৷ আর এই হামলা রুখে দিয়েছে পাকিস্তান পুলিশের মহিলা এএসপি সুহাই আজিজ তালপুর। তাঁর উদ্যোগেই জঙ্গিরা অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, অ্যাসল্ট রাইফেল, ম্যাগাজিন, বিস্ফোরক নিয়ে দূতাবাসে ঢুকতে পারেনি।

যদিও হাসানুল হক ইনু ঐ বক্তব্য দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের আগস্টে দিল্লির ‘স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন।  সেখানে এক সাক্ষাৎকারে করা তাঁর বালুচিস্তান বিষয়ক ঐ মন্তব্য ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। পাকিস্তানের বালুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’এর জেনারেল উবানের হাতে গড়া ‘গণবাহিনীর’ এই নেতা হাসানুল হক ইনু এই বক্তব্য যে নিছক বক্তব্য হিসেবে দেন নাই; সেটি যে ‘র’ এবং শেখ হাসিনার সরকারের যৌথ কোন গোপন সামরিক প্রকল্পের রাজনৈতিক ভাষ্য তা এখন প্রতিয়মান হয়েছে।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী বালুচিস্তান ইস্যু নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘‘ঐতিহাসিকভাবে জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রতি পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড ভালো নয়৷ তাদের সেনা ব্যবস্থাপনা ক্রমাগত বিভিন্ন জাতিসত্তার ওপর আক্রমণ করেছে৷ তারা ১৯৭১ থেকে কোনো শিক্ষা নিতে পারেনি এবং একই নীতি অনুসরন করে বালুচদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে৷”

ঐ সময়ে জার্মান ডয়েচে ভেলে প্রকাশিত রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছিল, বালুচিস্তানের আন্দোলনকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ জাতিসত্তার স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করতে বাধ্য৷ বালুচিস্তানের ক্ষেত্রেও আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করব৷”

বালুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে বলেও তথ্যমন্ত্রী মনে করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনী অন্যান্য জাতিসত্তা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে৷ ১৯৭১ সালেও এমনটাই হয়েছিল, তখনও পাকিস্তান নৃশংসভাবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে দমন করতে চেয়েছিল৷”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইনুর এই সাক্ষাতকারের ঠিক ৩ দিন পূর্বে ভারতের জাতীয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘‘আমি বালুচিস্তান, গিলগিট, বাল্টিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই৷ বালুচিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে যে নিপীড়ন চলছে, সে বিষয়ে গোটা বিশ্বকে পাকিস্তানের উত্তর দেবার সময় এসে গেছে৷” তিনি আরও বলেন, এই সব এলাকার মানুষ গত কয়েক দিনে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে৷ তারা যে ভারতের সমর্থন চাইছে, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন৷ এমনকি ভারতীয় মদদপুস্ঠ তালেবানদের হাতে পেশোয়ার হামলায় নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যুর ঘটনারও উল্লেখ করেন মোদী৷

উল্লেখ্য শেখ হাসিনার সরকারের সময়কালেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ হয়ে পাকিস্তানে বাংলাদেশের দুতাবাস ও কনস্যুলেটে কর্মরত কিছু গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ করতে গিয়ে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের হাতে ধরাও পড়ে; কিন্তু পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ককে মুল্যায়িত করে সেই সকল ভারতের পক্ষে কাজ কোর্টে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশীদের ফেরত দিয়ে দেয়।

কিন্তু তারপরেও যে হাসানুল হক ইনুর সরকারের কর্মকাণ্ড এই আঞ্চলিক জোট সার্কের চেতনাকে ধংসের জন্য কাজ করছে, তা করাচির চিলা দূতাবাসে হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি করছে বলেই কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।  করাচির কনস্যুলেটটিতে হামলার সময় অন্তত ২১ জন কূটনীতিক ও কর্মী কাজ করছিলেন৷ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সম্প্রতি পাকিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীন৷ যা ভারত এবং অন্যান্য সকল দেশে ভারতের এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের উস্মার কারন বলেই চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে, খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আফগান সীমান্তে অবস্থিত ক্লায়া শহরের এক বাজারে বোমা হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে৷ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে আরো ৫০ জন৷ নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ৷

Facebook Comments
SHARE