ছোট দলের বড় আবদারে বড় দলের দুশ্চিন্তা

339

শেখনিউজ রিপোর্টঃ শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারকে তাড়ানোর জন্যে জোট ঐক্য গড়া হলেও শেখনিউজ ডট কমের পূর্বাভাষ অনুযায়ী শেষ মেস তা নির্বাচন কেন্দ্রিকতায় রুপ নিয়েছে।  সরকার হঠাৎ হঠাৎ প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের ঠুকনো অজুহাতে গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখলেও জোটগুলো সেগুলোতে খুব একটা গা করছে বলে মনে হয় না।  আন্দোলন সংগ্রামে হারিয়ে যাওয়া নেতাদের ও তাদের অনুসারীদের ঝাঁকে ঝাঁকে আগমনে রাজনীতির আপাত দৃশ্যমান বন্ধ্যাত্ম অনেকটাই কেটে গেছে।  সবাই বিভিন্ন তদবির আর গোপন সমঝোতায় লিপ্ত, প্রয়োজনে দল বদল করে হলেও আসনের নিশ্চয়তা চায়।

নির্বাচনে বিভিন্ন দলের আদর্শ ভিন্ন হলেও প্রতীক নিয়ে অনেকেরই একতাবদ্ধতা চোখে পড়ার মত; কারন তারা বুঝে গেছেন বাংলাদেশে জনগণ তাদের যোগ্য নেতা চায় না, তারা চায় প্রিয় মার্কাকে জয়লাভ করাতে; আর তাতে মাদক বেপারী থেকে শুরু করে রাস্তার টোকাই থেকে বিত্তবান হওয়া হলেও কিছু যায় আসে না; জাতির কাছে বিগত সময় পর্যন্ত প্রার্থীর যোগ্যতার মুল্যায়ন এখনো প্রতীকের চেয়ে কম।

তাইতো জাতীয় ঐক্যজোটে এমনকি আওয়ামী মহাজোটেও টানাপড়েন চলছে। বিএনপি কোনমতেই ৫০ টির বেশি আসন ছাড়তে চাইছে না; যদিও আওয়ামী লীগ ৭০টি পর্যন্ত ছেড়ে দেয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। আসন ভাগাভাগির এই বিষয়টি কতদূর গড়ায় এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাদের কয়েক দফা বৈঠকে এখন পর্যন্ত যে ফলাফল তাতে সন্তুষ্ট নন এইচএম এরশাদ। দলের নেতাদের মাধ্যমে এবং বিশেষ মারফতে আওয়ামী লীগের কাছে অন্তত ৫০টি আসনে এরশাদ ছাড় চাচ্ছেন। তবে গতকাল রবিবার পর্যন্ত দর-কষাকষিতে এই সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে ওঠানামা করছিল। আজ সোমবার বিকাল নাগাদ মহাজোটের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের কথা। প্রত্যাশিত আসন না পেলে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে এরশাদ আওয়ামী লীগকে এক ধরনের হুমকি-মিশ্রিত বার্তা দিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি থেকে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চান বিপুল সংখ্যক নারী। যাদের বেশীরভাগই ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেত্রী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের স্ত্রী, কন্যা। বিএনপির দফতর সুত্র জানায়, দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন প্রায় সাড়ে ৭ শত নারী। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি ফরম জমা দিয়ে দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডে সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এসব নারী নেত্রী মনে করছেন, পুরুষের সমানতালে তারা আন্দোলন ও নির্বাচন করতে পারবেন। তাই তাদেরকে মনোনয়ন দেয়ার দাবী করছেন।

ঐক্যফ্রন্ট ২১৫টি আসন দাবি করে তালিকা দিয়েছে। তার মধ্যে ঐক্যফ্রন্টে থাকা গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডি মিলে ২শ’র বেশি আসনের জন্য দর-কষাকষি করছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম ও ঐক্য প্রক্রিয়া চেয়েছে ১৬০টি, আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি ২০টি আর মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ৩৫টি আসন। এর পরে আবদুল কাদের সিদ্দিকী চেয়েছে ২০ টির মতো। এর বাইরে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী,এলডিপিসহ অন্যরা আরো শতাধিক আসন চেয়েছে।

তাই দু’একদিনের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়টিতে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে, পরিষ্কার হবে আন্দোলন সংগ্রাম ও নির্বাচনী খায়েশের চিত্র।

Facebook Comments

Hits: 27

SHARE