সন্দেহ বাড়ছেঃ নির্বাচন কি আদৌ হবে!

275

শেখনিউজ রিপোর্টঃ নির্বাচন নিয়ে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। পুরো এক যুগ নির্মম নির্যাতন ও নিষ্পেষণের ভেতর দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে দিনাতিপাত করা দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার নাগরিকেরা আসন্ন নির্বাচনকে তাদের মুক্তির উপায় ধরেই আগাতে শুরু করেছেন।  যে কারনে পুরো উল্টো রাজনৈতিক দর্শনের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে জোট বাঁধায়ও তারা ভ্রূক্ষেপ করছে না।  পরিস্থিতি প্রতিদিন শেখ হাসিনার সরকারকে ও তার সরকারের সাথে সম্পৃক্ত লোকজনদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।  সেই মুহূর্তে দেশি বিদেশী নানান সুত্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছে; নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে শেখ হাসিনা নির্বাচনকেই ভণ্ডুল করে দিবেন কিনা!

নির্বাচন ভণ্ডুলের জন্য শেখ হাসিনার হাতে প্রথমত রয়েছে জঙ্গি কার্ড, দ্বিতীয়ত রয়েছে বিএনপির সন্ত্রাস কার্ড; যদিও দুটো মঞ্চায়ন করতে তারই লোকজন প্রস্তুত করা হয়েছে কয়েক বছর ধরেই। শেখনিউজ অনেক আগে থেকেই প্রকাশ করে যাচ্ছে যে শেখ হাসিনা গংদের মালিক ভারতীয় সরকার বাংলাদেশের বিষয়ে বেশি রিস্ক নিয়ে খেলতে না চাইলে, তারা নিজেরাই তাদের প্লট তৈরি করে নেবে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে।  সে ক্ষেত্রে ভারতীয় প্লট থেকে বাঁচতে অনেক আগে থেকেই শেখ হাসিনা তার পাল্টা প্লট বানিয়ে রেখেছেন। শক্তিশালী করে রেখেছেন তার নিজের সশস্ত্র পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। পুরো আওয়ামী লীগ ও তাবেদার প্রশাসনকে দিয়েছেন লুটপাটের অবাধ সুযোগ, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতেই আগ্রাসী ভূমিকা অটোম্যাটিক চালু করে দিতে পারে।

ভারতীয় প্লটে ডঃ কামাল হোসেনদের দিয়ে যখন জাতীয় ঐক্যজোট গড়া হলো এবং পরে জাতীয়তাবাদীরা জোটে অংশ নিলে রাজনীতির পালে হাওয়ার আমুল পরিবর্তন এসে যায়।  বিএনপির বিশাল জনসমর্থন পুঁজি করে ঐক্যজোট নির্বাচনে জয়লাভের টার্গেটে চলে যায়।  এজন্য ধানের শিষকে জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রতীক হিসেবেও গ্রহন কড়া হয়।

কৌশলে জোটের মুল চালিকা শক্তি হিসেবে মাতব্বরি করার সুযোগও ভারত পন্থীদের হাতে দিয়ে দেয় বিএনপি, যাতে করে ভারতপন্থী এই নেতাদের ইচ্ছে করলেই ধরে ধরে জেলে পাঠানোর আর অবস্থা না থাকে শেখ হাসিনার গংদের।  এরপর শুরু হয় গণ জোয়ার।  যদিও অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধাই এই গণজোয়ারকে ভিন্নভাবে মুল্যায়ন করেন, তাদের মতে এই জোয়ার হচ্ছে নির্বাচন ভিত্তিক জয়ার; এতে সরকার পতনের মত অবস্থা হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে আওয়ামী বিরোধী জনগণের মধ্যে সাহস সঞ্চারিত হচ্ছে গোপন ব্যালট প্রয়োগের লক্ষ্যে; যাতে তারা এই ব্যালট যুদ্ধে শেখ হাসিনা গংদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারেন।  আর জয়লাভ হলে ক্ষতিগ্রস্থ লাখো মানুষের প্রতিশোধের সামনে পড়বে হত্যাকারী ও গুমকারি চক্র।

বিএনপি বা ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে যতই বলা হোক নির্বাচনে জয়লাভ করলে দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী পন্থী সরকারী কর্মচারীদের কোন ক্ষতি করা হবে না; আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পরাজিত হলে স্বজনহারা ও নির্যাতিত জনগণ যাদের কারো বাবা, কারো ভাই, কারো স্বামী, কারো সন্তান হত্যা হয়েছে বা গুম হয়েছে, যাদের বাড়িঘর পুরিয়ে দেয়া হয়েছে, যাদের সম্পদ দখল কড়া হয়েছে, সেই জনগনকে সামাল দেয়ার কোন ক্ষমতাই ডঃ কামাল হোসেন বা বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের থাকবে না। এদের হাত থেকে ঐ সকল জল্লাদ এবং তাদের সহযোগীরা কেউই রক্ষা পাবে না বা রক্ষা করার কোন ক্ষমতাও কারোর থাকবে না।

শেখ হাসিনা নিজেই রং হেডেড এবং প্রতিশোধ পরায়ন হওয়ার কারনে এতো সহজে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে বলে কেউই বিশ্বাস করে না। যে কারনে আগে ভাগেই সংবিধানে সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচনের বিষয়টি সংযুক্ত করে রাখেন। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনা পরাজিত হওয়ার জন্য নির্বাচন আয়োজন করবেন, সেটি হবে বোকামি চিন্তা। শেখ হাসিনা গং কোন ভাবেই পরাজিত হওয়ার মত নির্বাচন করবেন না।  তাই ২৫ টির উপর আসনে নতুন মুখ নিয়ে আসছেন তিনি।  নির্বাচনে বাদ যাচ্ছে মাফিয়া বদির মত লোকজন। কিন্তু তারপরেও পরাজয়ের আভাস পেলে তার রিজার্ভ ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত লোকজন দিয়ে জঙ্গি ও বিএনপি সন্ত্রাসী কার্ড খেলে পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দেবেন।

এরপর হয় জরুরী অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবেন। সে ক্ষেত্রে সফল না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক পর্যায়ে নিতে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দেশত্যাগ করবেন শেখ হাসিনা এবং বাধ্য হয়ে সশস্ত্র বাহিনী পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করবে। তবে সবাই মনে করছেন শেখ হাসিনা হয়তো এমন প্রতিশোধ জাতির বিরুদ্ধে নিবেন না; যদিও এই জাতির উপরে তার অনেক ক্ষোভ, এ জাতি তার পরিবারের মৃত্যুতে ইন্না লিল্লাহে পড়ে নাই।

আর সমসাময়িককালে আন্তর্জাতিক চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে সমগ্র বিশ্বের অনুরোধেও মুক্তি না দেয়া এবং পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাসিতে ঝুলিয়েছেন, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সন্তান মইনুল হোসেনকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন, হাজার হাজার বিরোধী দলীয় কর্মীকে হত্যা করেছেন গুম করেছেন, কিন্তু বিন্দুমাত্র বিকার নেই; এমন মানুষ শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতি এতো সহজে মুক্তি পাবে সেই কল্পনা করাও উচিত নয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।

তবে অনেকেই হয়তো জানেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘র’ কর্তৃক মনোনীত সাবেক একজন জাসদ কর্মী। তিনি তাহাই করিবেন যাহা তাহার প্রভু চাহিবেন; শেখ হাসিনা এখানে কোন সাবজেক্ট নন। তাই তাহাকে ভয় পাওয়ার কারন যেমন আছে, ভয় না পাওয়ার কারণও বিদ্যমান।

Facebook Comments
SHARE