আ’লীগে ভীতি বাড়ছেঃ বড় বড় ডিগবাজির অপেক্ষা

522

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ধানের শিষ মার্কা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় ঐক্যের বিষয়ে সন্দেহ দূরীভূত হচ্ছে; আশার সঞ্চার করছে ভোটারদের মধ্যে। যদিও ভারতীয় নিল নকশার মধ্যেই এখনো চলছে সবকিছুই। তবে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময়ে বা আগে ভাগে রাজনৈতিক কিছু বড় ডিগবাজির চিত্র দেখা যাবে বলে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে। তবে আগের মত সেনা অফিসারদের এতে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ; কারন এতে করে তাদের পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, যে ঝুঁকি নিতে এই মুহূর্তে কেউ রাজী নন। 

এদিকে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পনা করে সরকারের হামলা মূলতঃ বুমেরাং হয়েছে; আওয়ামী লীগের ছেলেরা পুলিশের সাথে মিলে একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলেও আওয়ামী মিডিয়ার কারনে তা বিএনপির লোকজনের কাজ বলে প্রচারণা পেয়েছে, যা নেতা কর্মী এমনকি সাধারন ভোটারদেরও সাহসী করেছে নিঃসন্দেহে যা গ্রেপ্তারেও কমেনি বরং বাড়ছে। আগামিতে পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে সত্যিই তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে তারা, এমনকি তাদের পরিবারও।

বিএনপি সরকারের সময়ে চাকুরিচ্যুত আমলা ‘বর্তমান সিইসি’ যেকোন মুল্যে আওয়ামী বিরোধী জোটকে পরাভূত করার মিশনে বদ্ধপরিকর; তবে নির্বাচনী চিত্র উল্টে গেলে এই সিইসি ফলাফল ঘোষণার আগেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাড়ি দিতে পারেন, সে এন্তেজাম করা আছে।

এদিকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন বা তার আগের দিনে শেখ হাসিনা অনেক মিত্র হারাতে পারেন। যদি হাসিনা কঠোর কোন ভুমিকা নেন সে ক্ষেত্রে ঐ ডিগবাজি নির্বাচনের পর পিছিয়ে যাবে। শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনে বাঁধা দেয়ার মত ইস্যু তৈরি হলে রাজনৈতিক ডিগবাজিগুলো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ থামাতে পারবে না।

তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির একক সিদ্ধান্তের দিন শেষ হচ্ছে, সরাসরি ভারতপন্থি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লোকজনের প্রভাবে জেনারেল জিয়ার সেই জাতীয়তাবাদী চেতনার পরিবর্তে নতুন এক বিএনপির আবির্ভাব ঘটতে চলেছে; সেটি জনগণের কাছে কিভাবে মুল্যায়িত হবে তা নির্বাচন পরবর্তী সময়েই বোঝা যাবে।

হেফাজতের নেতারা শেখ হাসিনাকে ‘জাতির জননী’ বানালেও ৮০% হেফাজতের কর্মী এবং তাদের পরিবার নৌকায় ভোট দেবে না। এই প্রথমবারের মত হিন্দুদের ভোট বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের লোকজনের ভোট ধানের শিষ ছাড়া বিকল্প নেই। বাম জোটের ভোট বরাবরের মত কিছু নিজেরা পাবে বাকি সব নৌকায় যাবে। তবে তাবলীগ জামায়াতের (যদিও হেফাজতের লোকজন এখানে প্রচুর) লোকজনের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোট এবার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

মোতায়েনকৃত সেনা বাহিনীর ইউনিটগুলো শুধুমাত্র অস্ত্র ধারী রাজনৈতিক লোকজনকে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ভিড়তে না দিলেই আওয়ামী লীগ জোটের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বিজিবি ও র‍্যাব নিরপেক্ষ ভুমিকায় থাকবে বলে জানা গেছে; শুধু মাত্র পুলিশ দালালীর ভূমিকায় থাকবে, তবে ভোটের দিন পুলিশ নিজেরাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়তে পারে।

তবে জাতীয় ভাবে জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এতো বেশি যে, ক্ষমতা হারাতে চলেছে শুনলেও সরকারী দল বা সরকারী পুলিশ আমলাদের অর্ধেকের বেশি পালিয়ে না গেলে জনরোষ থেকে নিজেদের বাঁচাতেই পারবেন না, সেই জনতা ভোট দেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছে। একটি সুযোগ কোন ভালবাসার প্রকাশে নয়, তার ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাবে ভোটের মাধ্যমে।

Facebook Comments

Hits: 22

SHARE