আন্দোলন আন্দোলন খেলার দায় এবং জোটের নির্বাচন

280

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে, প্রবাদের মত রাজনীতি নিয়ে যে কয়টি প্রেডিকশন করেছিলাম, ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ে’র মত করেই ঘটে গেল। লাভের মধ্যে আওয়ামী এবং বিএনপি উভয় শিবির থেকেই গালাগালি পেয়েছি প্রচুর। একসময় জামায়াতের নেতারাও কথা শোনেন নাই; এলিমিনেট হয়ে গেছেন। আজকেও বলছি, আজকের যারা রাজনৈতিক আদর্শ মূল্যবোধকে শিকেয় তুলেছে, আগামী প্রজন্ম তাদেরও এলিমিনেট করে দিবে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। 

বিএনপির বানানো জোট এবং ডঃ কামাল হোসেনের জোট, জোটের জন্মের দিন থেকে যে পরিমান হুঙ্কার দিয়ে এসেছে, সেই হুঙ্কারের পর তা কর্মসূচিতে পালন করতে গিয়ে বা হুংকারকারিদের সাথে থেকে এ পর্যন্ত যারা খুন, গুম বা জেল- নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; এর দায়ভার কার উপর বর্তাবে? আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ যদি বুঝতে পারি পুরো আন্দোলন নামের গেমটি হচ্ছে পার্ট অফ মাস্টার গেম বাই ইন্ডিয়া, তাহলে অন্য আরও মানুষও যে এটি বুঝেছে সেটি কি নেতারা বোঝেন? কেন আওয়ামী লীগের মত পার্টি এই সকল আন্দোলনের হুংকারকে চুলকানির মত ভেবে নিয়েছে, সেটি কি এখন বুঝতে পেরেছেন সবাই?

সবাই নির্বাচনে গিয়েছে, এটা বিউটি অফ ডেমোক্রেসি; যদি ঐ জিনিসটা আসলে বাংলাদেশের কোথায় কেউ জানে না। যারা খুশি তারাও জানে না, যারা বেজার তারাও না। আম জনগন তো বোঝেই না; তাদের কাছে ইলেকশনে রাজা উজির বানানো হয়; যাদের বানায় তাদের সামনে এই জনগণের সেকি বিনয় আর গোলামী হাতকচলানো আর অনুনয়, সেটি বড় সকল দলে বা নেতার কাছে সমান ভাবেই বিদ্যমান।

মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির হুমকি দিয়েছেন, গায়েবী মামলা আর গ্রেপ্তার নির্যাতন চলছে, লেবেল প্লেইং ফিল্ড না পেলে নির্বাচনে অংশ গ্রহন নিয়ে তারা পুনর্বিবেচনা করবেন। বুঝলাম না এতো বছর আন্দোলনের নামে ফাকা বুলি দিতে দিতে তিনি কি অভ্যস্থ হয়ে পড়েছেন? এখনো সেই ফাকা আওয়াজ চলছে; ফখরুল সাহেবরা নির্বাচনে না এসে পারবেন না, তাতে শেখ হাসিনা তাদের নির্বাচনে নিতে না চাইলে জোর করে অংশ নিতেন তারা। ডঃ কামালদের নেতৃত্বে জোট বানিয়ে সেই কাজটি করতে পেরে তাদের মুখ রক্ষা হয়েছে কিছুটা। তবে এতে তাদের অন্যদিকে এমন ছাড় দিতে হবে যে সেটিও তাদের জন্য উদাহরন হয়ে থাকবে।

যেহেতু আওয়ামী লীগের বাইরে সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে বিএনপি, যে দলকে দেশপ্রেমিক শক্তি তাদের প্ল্যাটফরম ভাবে; যেমন কলকাতা পন্থী বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিবানেরা এবং সংখ্যালঘুরা ভাবেন আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম। তাইতো কমিউনিস্ট আন্দোলন আর মোজাফফর ন্যাপের লোকজন বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা উৎসব করে নৌকায় ভোট দিয়েছে সর্বদা। তো দেশপ্রেমিকদের আস্থার অবস্থানে যে বিএনপি ছিল সেই বিএনপি আজ আর নেই। আজ বিএনপি কার প্রতিনিধিত্ব করে আমি জানিনা, তবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে নেতাদের ও নেতার পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত। এখানে জনগণের বা জাতীয় স্বার্থের বিশেষ করে আদর্শিক বা দেশপ্রেমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গৌণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাইতো শেখ মুজিবুর রহমানের মানস পুত্রদের নেতৃত্বেও তাদের জোট বাঁধায় অন্তত তারা তাদের কোন নৈতিক আদর্শিক স্খলন খুঁজে পান না। এটা যে কত বড় স্খলন জাপানিজ হলে এদের প্রত্যেকের নিজ হাতে চাকু নিয়ে হারিকিরি (আত্মহত্যা) করতে হতো।

আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আসার পর থেকেই জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিনষ্টের ভারতীয় ব্লুপ্রিন্ট এ খেলছে, সেই সাথে ইন্নালিল্লাহে না পড়া জাতিকে নৈতিকতা ও ম্যরাল বিবর্জিত একটা ফাঁপা খোলস বানানোর জন্য যা যা করার তাই করে চলেছে। দেশকে করেছে মাদকে ছয়লাব, বিচারবিভাগ বিচারহীনতার প্রতীক, পুলিশ র‍্যাব মানেই নাগরিকের জীবন ও জীবিকার উপর হুমকি, ঘুষকে বানিয়েছে জাতীয় সংস্কৃতির অংশ, প্রতিটি দপ্তর হচ্ছে দুর্নীতিতে ভরপুর; কিন্তু বলা যাবে না ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না কিছুই।

কিন্তু আমাদের জাতির একমাত্র নির্ভরযোগ্য সৎ প্রতিষ্ঠান ছিল সশস্ত্র বাহিনী; জাতি বিশ্বাস করে এখানে এখনো অনেক সৎ মায়ের সন্তানেরা আছেন যারা নীরবে জাতির এই দুর্দশায় চোখের অশ্রু বিসর্জন দেন। ঊর্ধ্বতন অফিসারদের লোভের কাছে সশস্ত্র বাহিনী জিম্মি হয়ে পড়েছে সেই মইনউদ্দিনের আমল থেকে, যদিও তাদের ধর্মগ্রন্থ শপথ নিতে হয়েছে জাতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার। কিন্তু তারা পারছে না নিজ মাতৃকার ইজ্জত রক্ষা করতে,যা ভারত আর ভারতীয় দালালদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছে।

শুনেছি শেষ জমানায় দাজ্জাল আসবে, কয়জন আসবে জানি না, তবে দাজ্জাল যাকে স্বর্গ দেবে আসলে তার জন্য নরক হবে; আর তার কাছে যে নত হবে না, তাকে সে নরকে দেবে, আসলে সেটিই হচ্ছে স্বর্গ। আজকে যারা নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে অবশেষে দাজ্জালের কাছে স্বর্গের আশায় নত হলেন তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, সেটি এখন দেখার অপেক্ষায় বোদ্ধা মহল। জ্ঞান আল্লাহ সবাইকে দেন নাই; সবার জন্য জ্ঞান নয়ও, পবিত্র কোরানেও বলা হয়েছে মহাকাশের দিকে তাকাও জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে জ্ঞানের অফুরন্ত ভাণ্ডার; এখানে কিন্তু সবার জন্য বলা হয় নাই। তেমনি আমাদের রাজনৈতিক নেতারা সবাইকে বোকা ভাবলেও, আসলে যারা জ্ঞানী তারাই দেখবে এই সকল রাজনৈতিক আদর্শের নষ্টদের ভবিষ্যৎ। অন্যেরা নয়।

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

Facebook Comments
SHARE