তফসিল ঘোষণাঃ বল এখন হাসিনা ঐক্যজোটের কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছেন

77

শেখনিউজ রিপোর্টঃ জাতীয় ঐক্যজোট বা বাম জোটের কোন দাবী না মেনেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সাথে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কড়া প্রহরা, গোপন হয়রানি আর ধরপাকড়। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা তার নিজের কোর্টে থাকা বলটি ফেরত পাঠিয়েছে জাতীয় ঐক্যজোটের কোর্টে। ঐক্যজোটকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচনে যাবে নাকি আন্দোলনে যাবে। সে ক্ষেত্রে আন্দোলনের সফলতা না আসলে কি হবে আর নির্বাচনে গেলেই বা সফলতা কতটুকু পাবে বা জাতি তাদের কোনভাবে মুল্যায়ন করবে। 

শেখ হাসিনা বা তার দল ভাল করেই জানে জাতি তাদের ভয় করে কিন্তু ভালবাসে না; আর ক্ষমতা চলে গেলে তাদের ভিটেমাটিও থাকবে না জনরোষের বহিঃপ্রকাশে। তাই যে কোন মুল্যে মাটি আঁকড়ে থাকার নীতি অবলম্বন করেছে তারা। তাদের বশংবদ সরকারী সকল প্রকার কর্মচারী, বাহিনীরর সদস্যরা, দলের লুটেরা অংশ এবং মাফিয়ারা শেখ হাসিনার দলীয় সরকারের চেয়েও বেশি মরিয়া ে ক্ষেত্রে। তাদের জানবাজি অবস্থা। এবং এটাই স্বাভাবিক।

বিপরীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, গুম, গ্রেফতার নির্যাতনে ভীত সন্ত্রস্ত; কোনরূপ আন্দোলন করার মত অবস্থায় তারা নেই এটাই বাস্তবতা। বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ডাকে জনতা রাস্তায় নেমে এলেও হঠাৎ করে আন্দোলনের রশি ঢিল করে দেয়ায়, সাধারন মানুষও আর রিস্ক নিতে রাস্তায় নামছে না, নামবে কিনা এর কোন গ্যারান্টিও নাই। এমতাবস্থায় ৫০০ মানুষও নাই এমন দলের নেতার নেত্রিত্বেও তাদের জোট করতে হয়েছে, যা বিএনপি আসল অবস্থা প্রমানের জন্য যথেষ্ট। যদিও এখনো যদি তারা অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে বা চেষ্টা করে, তবে অবস্থা যে কোন সময় পাল্টে যেতে পারে। তবে তেমন পরিস্থিতি করার মত নেতৃত্ব বিএনপিতে কতখানি কার্যকর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ বিরাজমান।

ইসলামী দলগুলোর মধ্যে শক্তিশালী জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ভেঙ্গে গেছে অফিসিয়ালি। তারা আন-অফিসিয়ালি বিএনপির জন্য কাজ করবে কিনা সে গ্যারান্টি নেই। এর বাইরে অন্যান্য ইসলামী শক্তিশালী দল বা প্ল্যাটফর্ম যা আছে তার অধিকাংশ নিজেদের গা বাঁচাতে শেখ হাসিনার সাথে চলে গেছে।  জেনারেল এরশাদ সরাসরি শেখ হাসিনার আনুগত্যে রয়েছেন; ডাঃ বদরুদ্দজা চৌধুরী ইনিয়ে বিনিয়ে শেখ হাসিনাকেই শক্তিশালী করছেন।

কেবলমাত্র সিপিবির নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট রাজনীতিতে ভিন্ন কথা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু নির্বাচনের সময় এদের লোকজন নৌকায় ভোট দেয়া অনেকটাই রেওয়াজ বলে জনমনে প্রচলিত আছে। তারপরেও বাম নেতারা বলেছেন, “আমরা স্লোগান দেই- এক জোটে রাজাকার, এক জোটে স্বৈরাচার। স্লোগানটা একটু কারেকশন করা দরকার, দুই জোটেই রাজাকার, দুই জোটেই স্বৈরাচার।  আমাদের এখানে এখনও একটি স্বাধীন উৎপাদনশীল বুর্জোয়া রাজনৈতিক সংগঠন নেই। আওয়ামী লীগের ভেতরে এই সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এটা এখন লুটেরা ধনীক শ্রেণির দলে পরিণত হয়েছে।  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তো বটেই এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে, ইউনিয়ন পর্যায়ে গেলেও দেখা যাবে লুটপাটের পেছনে তাড়িত হয়ে দলের একটা পদ পাওয়ার জন্য ১০-২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তদবির করে।”

এদিকে বিএনপির নেতৃত্বের পর্যায়ের অনেকেই চাননা এমন পরিস্থিতি বানাতে যাতে অরাজনৈতিক কোন সরকার ক্ষমতায় চলে আসে; কারন এতে তাদের লুটেরা বনিক শ্রেণী বা শেয়ার মার্কেটের ধান্দাবাজির সাথে জড়িতরা যে কোন রাষ্ট্রীয় হুমকির মধ্যে পড়তে হতে পারে। এই শঙ্কায় আন্দোলনও চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে যাওয়া হয় না; যদিও জাতীয়তাবাদীদের তৃণমূল একপায়ে খাড়া চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য। কিন্তু তাদের জানা নেই পুঁজিবাদী বুর্জোয়া রাজনীতির নিয়ন্ত্রন করে পুঁজিবাদী মুনাফাখোর গোষ্ঠী, তৃণমূল নয়।

তাই শোষক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বশিল শেখ হাসিনার সরকারের ফিরিয়ে দেয়া বল জাতীয় ঐক্যজোট কিভাবে খেলবে, জাতির ভাগ্য তার উপরই অনেকটা নির্ভরশীল এখন। যদিও তা পুরোটাই ভারতীয় সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সরকারের পলিসির মধ্যে আবদ্ধ থেকেই হবে।

 

Facebook Comments
SHARE