জাতীয় ঐক্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় … (৬)

93

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ আজ শেষ সংলাপে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যজোট। দেশে আরও অনেক জোট থাকলেও মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের অনুসারি ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত জোটকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে জাতি; কারন এই জোটে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি যাদের আদর্শ সরাসরি ডঃ কামাল হোসেনসহ অনেক দলের রাজনৈতিকে আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত।  ডঃ কামাল হোসেনের পথ ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে অনেক জোট ও দল ইতিমধ্যেই সংলাপের সুযোগ নিয়ে তাদের অবস্থান যেমন জানান দিয়েছে তেমনি শেখ হাসিনাকে নতুন করে তার অবস্থান পরখ করারও সুযোগ দেয়া হয়েছে। 

যদিও শেখ হাসিনা সঠিক পথে হাঁটবেন কিনা সেই সন্দেহ পুরো জাতির। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ ইনিয়ে বিনিয়ে জানিয়েছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার এমনও তথ্য এসেছে বেগম জিয়াকে প্যারল বা জমিন দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শেখ হাসিনা নিজেকে রিস্ক মুক্ত রাখবেন। কিন্তু সেটি কতক্ষনের জন্য সেই সন্দেহও রয়েছে; যদিও তা ২/১ দিনের মধ্যে পরিস্কার হয়ে যাবে।  শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে মুক্তি দিলে সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন জোটের নেতাদের দেখা যাবে। এটা হল স্বাভাবিক চিত্র, নির্বাচনকে স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার পথ। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম কমিশনারের নেতৃত্বে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের সাথে সাক্ষাত করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন ভাবনার খোরাক যোগাচ্ছে। কারন এটি যে সৌজন্য সাক্ষাত নয় সেটি বুঝতে পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন নাই।

জেনারেল আজিজকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাহিনীর শীর্ষ পদ প্রাপ্তির পর তার জীবনে আর কিছু পাওয়ার নেই; আর জাতি এখনো ভাবে রাজনৈতিক তস্করেরা যখন জাতিকে পুরোটাই ছোবড়া বানিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়, তখন তাদের মুক্তির একমাত্র স্বপ্ন থাকে তাদের পয়সায় প্রতিপালিত শপথ নেয়া সশস্ত্র বাহিনী জাতিকে মুক্তি দেবে; যুগে যুগে কালে কালে হাজার বছর ধরে পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই ঘটেছে, ঘটেছে বাংলাদেশেও। এমন ইতিহাস থাকায় জাতি উৎসুক হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থানকেও পর্যবেক্ষণ করছে গভীর আগ্রহে নিঃসন্দেহে।  ডিএমপি কমিশনারের টিমের এই সাক্ষাত জাতিকে নানানভাবে ভাবতে উৎসাহিত করছে; যদিও জাতি এতে আর ততখানি আশাবাদ নিয়ে নেই; তবে প্রত্যাশা তাদের অবশ্যই রয়েছে।  এটি ভাবনার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর; প্রমানের দায়িত্বও তাদের যে তারা জাতি ও রাষ্ট্রের নাকি রাজনৈতিক সরকারের।

তবে সশস্ত্র বাহিনী কেন জাতির জন্য এগিয়ে আসছে না এটিও কিন্তু ভাবনার বিষয়। যে সকল সময় তারা জাতিকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে, পরবর্তীতে বেনিফিসিয়ারি রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমনকি জীবন পর্যন্ত দিয়েছে। এই বিষয়টি জাতি অনুধাবন না করলে জাতিকে মুক্তি দিতে অন্তত সশস্ত্র বাহিনী আর আগাবে না।  জাতিকে ঐ সকল বেইমান বেনিফিসিয়ারিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে যেমন বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে জাতীয় স্বার্থ ধ্বংসকারী জাতীয় বেইমানদের বিরুদ্ধে। ইতিহাসে এই বিষয়টির সুরাহা বা ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত জাতির মুক্তি সুদুর পরাহত; চেয়ারের বদল হলেও জাতির ভাগ্য পরিবর্তন হবে না।

সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার বিষয়টি সংবিধানে সংযোজন করলেও সংবিধানের অন্যান্য ধারায় সংসদ ভেংগে নির্বাচন করার বিষয়টি যেমন এখনো বিদ্যমান যা বাতিল করতে আওয়ামী লীগ যেমন ভুলে গেছে, তেমনি সংসদ রেখে নির্বাচনের ব্যবস্থা করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের স্পিরিটের খেলাপ ও ক্ষমতাসীনদের বদ মতলবের পরিচয় যা সরাসরি জাতীয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান; তথা জাতি বিরোধী এবং প্রকারান্ত্রে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ যা ক্ষমতার অপব্যবহার করে করা হয়েছে; তাই এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কিন্তু রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত একদল অন্যদলকে ক্ষমতায় এসে হয়রানি করে, কষ্ট দেয়, কিন্তু কোন অপরাধের কোন লুটের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করেছে এমন নজীর কি আছে? নাই। কখনই ছিল না, এখনো নাই। আর রাষ্ট্রের এমন একটা অংগ নাই যেখানে দুর্নীতি নাই, পচে যায় নাই। ১০ জন জাতীয় রাজনৈতিক নেতার নাম বলা যাবে না যারা কোন না কোন দুর্নীতি করে নাই। পাঁড় পুঁজিবাদী রাজনীতিতে অর্থনৈতিক মাফিয়া ও মুনাফাখোরেরা রাজনীতির সব নিয়ন্ত্রন করে, তাদের স্বার্থে রাজনীতি ও ক্ষমতা আবর্তিত হয়, পরিবর্তিত হয়; এখানে জাতি বা জনগণ হয় ব্যবহৃত, এতেই জাতি ডুগ ডুগি বাজায়। জাতি আদৌ মুক্তি পায় না বা মুক্তি চায়ও না। কারন তারা চেনে মার্কা, মার্কার বিপরীতে মানুষটাকে নয়। যেদিন থেকে তারা আদর্শ ও রাজনীতির মানুষটাকে চিনতে পারবে, তার পরেই কেবল মুক্তির পথ আসবে।

চাল ও ডাল মিশিয়ে অন্যান্য মসলা দিয়ে খিচুড়ি হয়, তাও খাওয়া যায়; কিন্তু চাল ও পেট্রল বা গোবর দিয়ে মসলা দিয়ে কিছু রান্না করলেও তা খাবার উপযুক্ত কিছু হয় না। পেট্রোলে বা গোবরে আগুন জ্বলতে পারে, পুরে খাক হয়ে যেতে পারে অনেক কিছুই, কিন্তু এতে সময়ের অপচয় ও নতুন এক বাস্তবতার জন্ম হয়, কিন্তু খাওয়া হয় না। জাতি আজ তেমন এক অবস্থায়; জাস্ট ওয়েট এন্ড সি। (শেষ)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

Facebook Comments
SHARE