শেখ হাসিনাকে ‘কওমি (জাতি) জননী’ উপাধি দিয়েছে কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ !!

47

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ২৭ লাখ শিশুর পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়ে আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ কর্তৃক দেয়া সম্বর্ধনার মাহফিলে শেখ হাসিনাকে  ‘কওমি (জাতি) জননী’ উপাধি দিয়েছে।  সম্বর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি মনে করি একটা শিক্ষা তখনই পূর্ণাঙ্গ হয় যখন ধর্মীয় শিক্ষা সেই সাথে গ্রহণ করা যায়। তখনই শিক্ষা পূর্ণ হতে পারে।” কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় সংসদে আইন পাস করায় প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্বর্ধনা দেয়া হয়; যদিও এটি আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। 

মুফতি রুহুল আমিন কওমি সনদের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন। বক্তাদের কেউ কেউ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ারও দাবি জানান। আহমদ শফীর সভাপতিত্বে সকাল ৯টায় কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সূচনা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে আহমদ শফী তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে এ মাহফিলের আয়োজন করে কওমির ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ। এ সংস্থার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধান অতিথি।  প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার পর তার হাতে শুকরিয়ার স্মারক তুলে দেন আহমদ শফী। আর প্রধানমন্ত্রী এ সময় শফীর হাতে পাস হওয়া আইনের অনুলিপি তুলে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “যারা ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মধ্যে উপস্থিত হতে পারা একটা সৗভাগ্যের বিষয়। আমাকে যখন আল্লামা শফী সাহেব বললেন, এই বিল পাস করার জন্য তিনি সংবর্ধনার আয়োজন করবেন। আমি বললাম, না, আমার জন্য সংবর্ধনা না। এটা হবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়। তিনি বলেন, “আমি এটা বিশ্বাস করি যে, ইসলাম শান্তি, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। আর সেই দ্বীন শিক্ষা যারা দেন তারা কেন অবহেলিত থাকবে! তাদের অবহেলিত থাকতে দেওয়া যায় না।” তিনি ”জাতির জনক” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন ও টঙ্গীতে ইজতেমার জন্য জায়গা দেওয়া, বাংলাদেশকে ওআইসির সদস্য করাসহ বিভিন্ন কাজের কথা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, “যখনই সরকারে এসেছি, আমরা চেষ্টা করেছি। শিক্ষা নীতিমালায় আমরা ধর্মীয় শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। অথচ তাদের ডিগ্রির যদি স্বীকৃতি না থাকে তাহলে তারা কোথায় যাবে, কী করবে, কী করে তারা চলবে? এ উপমহাদেশে মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণ করার একমাত্র উপায় ছিল এই কওমি মাদ্রাসা। যারা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন. তারাই এ মাদ্রাসার সৃষ্টি করেছিলেন। কাজেই তাদের সবসময় আমরা সন্মান করি। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা ১৯৭৭ সালে কওমির স্বীকৃতিটা বাতিল করে দিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন,“আমরা সবসময় আমাদের নবী করিম (স.) এর পথ অনুসরণ করে চলি। ইসলাম ধর্মের মূল কথা শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা। নবী করিম (স.) যে শিক্ষা দিয়েছেন সে শিক্ষা নিয়েই আমরা পথ চলব। “কারো প্রতি বিদ্বেষ না, কারো প্রতি ঘৃণা না, কারো প্রতি কোনো খারাপ চিন্তা না। আমরা সবসময় মনে করি মানুষের কল্যাণ, মানুষের উন্নতি, মানুষের মঙ্গল এবং মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে।”

বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে হানাহানির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতে লাভবান হচ্ছে যারা অস্ত্র বিক্রি করে। রক্ত যায় কাদের? মুসলমানদের।  মুসলিম উম্মাহকে এক হয়ে শান্তির পথে যেতে হবে। যদি কোনো ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে, সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করব।”

উল্লেখ্য যে, ঢাকায় এই ‘শোকরানা মাহফিলের’ জন্য জুনিয়র স্কুল স্তরের এমন দুটি পরীক্ষা আকস্মিকভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়, যাতে অংশ নেবার কথা সাতাশ লাখ পরীক্ষার্থীর  পরীক্ষার মধ্যেই হঠাৎ করেই রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করে সেটি শুক্রবারে নেয়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষাবোর্ডগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।

Facebook Comments
SHARE