দাবী আদায় না হলেও নির্বাচনে যাবে অনেকেই!

52

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ডঃ কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন এখনি তফসিল ঘোষণা না করতে; সেই সাথে চিঠি দিচ্ছেন সরকারের সাথে আবারো সংলাপের। অন্যদিকে ৭ তারিখের পর আর কোন সংলাপ হবে না বলে সময় বেধে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে কোন কোন দল নির্বাচনে যাবে প্রশ্নটি।  

মুল প্রশ্ন বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কিনা? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নের সমাধান না হলে কি সমাধান দেবেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ? ঐক্যজোটই বা কি ভূমিকা নেবে তখন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে জোট সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সুত্র জানিয়েছে, নির্বাচন ঘোষণা হলে বাধ্য হয়ে জোট নির্বাচনে অংশ নেবে; তখন তাদের ঘোষণা হবে নির্বাচনে জনতার জয়লাভের মধ্য দিয়েই ৭ দফা আদায় করা হবে, এই জাতীয় কিছু।  আওয়ামী জোট এবং সরকারও তেমনটাই ভাবছেন; তাই তারাও এ নিয়ে কোন দুশ্চিন্তায় নেই।

জাতীয় ঐক্যজোটের মধ্যে কাদের সিদ্দিকির দলকে যোগদান করাতে বিএনপির নেতারা তার বাসায় পর্যন্ত ধর্না দিয়েছেন। কারন বিএনপি মনে করছে দীর্ঘদিন ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক লালিত পালিত কাদের সিদ্দিকি ও তার দল জোটে সক্রিয় হলে ভারতীয় আশীর্বাদ কানায় কানায় পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে যাওয়ার জন্যই এটি করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়েছে। কারন কাদের সিদ্দিকির দল দিয়ে সারাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কিছু যোগ হওয়ার কোন কারন নাই।

এদিকে ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।  জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি একপায়ে খাড়া নির্বাচনের জন্য। বাম জোট নির্বাচনে বরাবরের মতই হাজিরা দেবে। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় ইসলামী ভোট কাজে লাগানোর জন্য কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক শফি হুজুরকে ব্যবহারের গোপন কাজ চলছে বলে জানা যায়; এছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ইত্যাদি তো রয়েছেই।

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদিও বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে কিন্তু দলের মধ্যে বিদ্রোহের সম্ভাবনায় সবশেষে তিনিও সায় দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যেহেতু ইতিমধ্যেই বিএনপি তাদের গা বাঁচানোর জন্য ডঃ কামালকে মুরুব্বি হিসেবে পেয়েছে তাই সেই মুরুব্বির উপর প্রকারান্তরে ভর করেই নির্বাচনে যাবে।  নইলে বিএনপি’র মধ্যে বিভক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলেই প্রতিয়মান হবে।

তাই শেখ হাসিনা ও তার সরকার মূলত একপ্রকার চালকের অবস্থানেই রয়েছে; তারা চাচ্ছে তাদের নৌকায় উঠে সবাই তাদের হাতে জিম্মি হয়েই নির্বাচন করুক; যদিও বিএনপি আন্দোলন সক্রিয় করতে সক্ষম হলে দেশে ভিন্ন কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো প্রবল; যা নিয়ে সরকারে এখনো অস্বস্তি বিরাজমান।

Facebook Comments
SHARE