মাননীয় মান্দার গাছ

65

আজিমুল হক খানঃ “মাননীয়” শব্দটি সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে তাঁর পদের সামনে ব্যবহৃত হয়। তবে সেটা স্থান, কাল, পাত্র এবং পদ-পদবী ভেদে। ব্যক্তি বিশেষ কিংবা সর্বজন শ্রদ্বেয় যার প্রতি মন থেকে শ্রদ্ধা আসে, সেসব জায়গায় এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়।  বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে এই শব্দের ব্যবহার এতো বেড়েছে, এই শব্দটি আমার কাছে রীতিমতো মানসিক নিপীড়ন। এই শব্দটি এখন ”তেলবাজি”র প্রতীক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। “মাননীয়“ শব্দটির পাশাপাশি “মহোদয়“ “”প্রিয় ভাই” “অভিভাবক“ শব্দগুলোর ব্যবহার মারাত্মক বেড়েছে। নির্লজ্জ তেলবাজিতে এসব শব্দ ব্যবহার হচ্ছে।

যেমন লোক দেখানো কৃত্রিম সম্মান দিয়ে বলে,“প্রিয় ভাই আমার, সাথে আছি এগিয়ে যান।” “আমাদের পরিবারের অভিভাবক সম্মানিত চেয়ারম্যান অমুক ভাই।” “৪২০ নাম্বার ওয়ার্ডের অভিভাবক তমুক ভাই।“ “চেয়ারম্যান মহোদয় সদয় অনুমতি দিয়েছেন।” পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন, উপজেলা-জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী সবাই তেলবাজিতে ব্যস্ত। অনেকে “ভয়ে” “স্বার্থ হাসিলে“ “লজ্জায়” কিংবা “অন্যরা করছে“ বলে অনিচ্ছাকৃত হলেও এই শব্দগুলো উচ্চারণ করে।

কিছুদিন আগে জাতীয় পত্রিকার এক জেলা সংবাদদাতাকে কে দেখলাম “রিপোর্টের” মধ্যে শেখ হাসিনাকে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী“ বলে রিপোর্ট করতে। বাক্যটি এমন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অমুক সালের মধ্যে দেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে।” ইদানিং দেখি শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো কথা বললে অথবা তার কথার কোনো রেফারেন্স নিলে কিছু মানুষ অবধারিত ভাবে তাকে ”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী” বলে সম্বোধন করে। আবার শেখ হাসিনার নামের প্রথমে “মাননীয়“ শব্দটি উচ্চারণ না করলে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়, তারা মনে করে এতে শেখ হাসিনার অসম্মান করা হচ্ছে।

“মাননীয়” শব্দটি এখন আমার চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বীকৃত দুর্নীতিবাজকে মাননীয় বলে সম্বোধন করা হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট শাসককে মাননীয় বলে সম্মান করা হচ্ছে এমনকি জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা নির্লজ্জ মিথ্যাবাদীকে মাননীয় বলে ডাকা হচ্ছে। মানুষ হিসেবে এমন লজ্জাহীন কর্মে আমি লজ্জিত হই, বিবেক আমাকে দংশন করে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চ বর্গীয় গালি দিয়ে বলতে “মাননীয় ********দ”. কিন্তু আমি পারিনা। নিজের এই অক্ষমতার দরুন বলি “ মাননীয় মান্দার গাছ“। মান্দার গাছকে মাননীয় বলা অনেক সুখকর।

Facebook Comments
SHARE