জাতীয় ঐক্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় … (৪)

108

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ  ভারতের প্ল্যান ‘এ’ হচ্ছে সবাইকে মাঠে রেখে শেখ হাসিনাকে নামে মাত্র ভোটে জিতিয়ে আনা যাতে বিরোধী জোটেও তাদের নিয়ন্ত্রন থাকে। প্ল্যান ‘বি’ হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ভারতের বশংবদদের জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় নিয়ে আসা, কিন্তু আওয়ামী লীগকে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা সম্পন্ন বিরোধীদলে নিয়ে যাওয়া।  ভারতীয় ইচ্ছায়ই এখন সংলাপ হচ্ছে; যদিও ভারতীয় ইচ্ছাকে হালকা বানিয়ে দেয়ার জন্য সংলাপের নামে অনেক দলের সাথেই সরকারী দল বসবে, তাদের কাছ থেকে কনসেশন নেবে; যদিও এখনই বোঝা যাবে না সংলাপে লাভ কার হচ্ছে।  তবে এই মুহূর্তে সংলাপের দ্বারা অবৈধ সরকার পূর্ণ বৈধ সরকারে পরিনত হচ্ছে। আর এ বৈধতা দিচ্ছেন হাজার হাজার সংগ্রামীর লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

আমি আগেও লিখেছি পুরো নাটক ভারতীয় স্ক্রিপ্টে ভারতীয় প্রযোজনায় ভারতীয় ‘র’ এর পরিচালনায় সম্পন্ন হচ্ছে। এখানে বিএনপি আর মুখ্য ভুমিকায় নেই। কিন্তু যেহেতু বিএনপির লোকবল ও জনসমর্থন কাজে লাগাতে হবে তাই প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘জামিন’ দিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।  তবে বেগম জিয়া ও তারেক রহমান নেতৃত্ব হারাচ্ছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত।  বাংলাদেশ আগামী আরও অনেক সময়ের জন্য ভারতীয় নিয়ন্ত্রণেই থাকছে, এটাও নিশ্চিত প্রায়।  রাজনীতির মাঠে যত বিপ্লবীই দেখিনা কেন এরা আসলে তথ্যবিহীন বেকুবের মত আস্ফালন করছে। বিএনপি বাকী কয়েকদিনের মধ্যে যাতে এতিম হতে পারে সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক শেখ মুজিবর রহমানের ভাবশীষ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিবেন, অনেক বিএনপির লোকজনকেও দেখা যাবে বিকল্পধারায় যোগ দিতে।  ইতিমধ্যেই গামছা কাদের সিদ্দিকির বাসায় ডঃ কামাল হোসেনদের ডিনার সম্পন্ন হয়েছে। পাশ্চাত্যের ও সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদের বিষয়ে এক গোপন খেলার অংশে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। এটি পাশ্চাত্য ও সামরিক বাহিনীকে সতর্ক সংকেত দেয়া মাত্র যে তাদের ভূমিকা মেনে নেয়া হবে না। যদিও এখনো কখন কি ঘটে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

আর ৭ দফার বিকল্প যে কোন সময় সামনে চলে আসতে পারে; সেই বিকল্প বিএনপিও মেনে নেবে যদি তারা দেখে বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া হয়েছে তবে শর্ত লাগিয়ে। যদিও জোট না হলেও বিএনপি নির্বাচনে যেতো, জোট হওয়ায় যে কোন কনসেশন দেয়ার বেলায় তাদের ইজ্জত রক্ষা হচ্ছে, কারন জোটের নেতৃত্ব তাদের হাতে নেই। তারা ভাবছে ডঃ কামাল হোসেন ও অন্যদের কাঁধে বন্দুক রেখে তারা সামনের মাঠ তৈরি করছে; কিন্তু উল্টো তাদের মাঠ ব্যবহার করে যে ভারতীয় গেম খেলা চলছে সেটি তারা আরও পরে বুঝবে, কিন্তু তখন আর বেলা থাকবে না।

নির্বাচনে ‘ইভিএম’ চালু করা হচ্ছে, এটায় রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করে দিয়েছেন; শেখ হাসিনা এটা করছেন নিজেকে রক্ষায়; কারন তার ইতিমধ্যেই ভয় ঢুঁকে গেছে ভারত তাকে প্ল্যান ‘বি’ দিয়ে সরিয়ে দিতে পারে। এটা অনেকটাই নিশ্চিত জেনেও তিনি শেষ চেষ্টা হিসেবে এটা রেখেছেন। ২ দিন আগেই শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় না এলেও তিনি তার কাজগুলো দেখতে আসবেন। এতে দুটো বিষয় বোঝা যায়, হয় তিনি নিশ্চিত হয়েছেন তাকে বিরোধী দলে পাঠানো হবে অথবা তিনি যে বুঝতে পারছেন এটা প্রভুকে বুঝিয়ে দেয়া; সেই সাথে এমন মাঠ বানাতে চাচ্ছেন যে অন্যেরা বোঝে যে বিরোধীদের জেতার সম্ভাবনা আছে যাতে সবাই নির্বাচনে আসে।  যে কোন চাপেই সংলাপকে গ্রহন করছেন না কেন তিনি সংলাপকে পুরোপুরি সং-আলাপ বানিয়ে ছেড়ে দেবেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্ট সহ অন্যান্যদের সংযুক্ত করার প্রস্তাব শেখ হাসিনা দেয়ার সম্ভাবনা আছে এবং সরকার বিরোধীরা তাতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে বিএনপি যে ভীষণ এক রাজনৈতিক প্যাঁচে পড়েছে সেটি বিএনপির অনেকেই বুঝলেও প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোন ব্যক্তিগত প্রতিনিধির পক্ষে জোটের কোন অবস্থানেই যাওয়ার সম্ভাবনা নেই; সংলাপে যাওয়ার যোগ্যতা তো নাইই। এমনকি আইনের দ্বারা তারেক রহমান নেতৃত্ব হারালে তার এতদিনের ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের পদগুলো আপনা আপনি রহিত হয়ে যাবে। সেটিও বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে জেনারেল জিয়ার জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল যারা ১৯৭৫ এর সরাসরি বেনিফিসিয়ারি, সেই দলটি তার বিপরীত আদর্শের দল ও মতের মানুষদের নেতৃত্বে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে হচ্ছে; কারন এ ছাড়া তাদের কাছে এই মুহূর্তে কোন বিকল্প নাই; এটাই সত্যি।  (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Facebook Comments
SHARE