আরপিও নয় হাইকোর্ট দিয়ে বেগম জিয়া ও তারেকের নেতৃত্ব বাতিল করানো হচ্ছে

73

শেখনিউজ রিপোর্টঃ দু’টি মামলায় ১০ এবং ৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ মাস কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷ তারেক রহমানেরও দুর্নীতির দু’টি মামলায় ৭ ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে৷ এছাড়া ২১শে আগস্ট মামলায়ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তার৷ কিন্তু বিএনপি তার গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনে দণ্ডিত ব্যক্তিকে নেতৃত্বে রাখার ব্যবস্থায় করায় সরকার গোপনে জনৈক মোজাম্মেল হোসেনের দ্বারা হাইকোর্টে আবেদন করালে হাইকোর্ট বিষয়টি এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে৷

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য৷ তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায়৷ যদিও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির এভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার নজির আছে বাংলাদেশে৷

বিএনপির গঠণতন্ত্রে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের দলীয় কমিটিতে না রাখার বিধান ছিল৷ কিন্তু এক সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হয়৷ মোজাম্মেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বিএনপির গঠনতন্ত্রের ওই সংশোনীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন৷ এক আদেশে ওই আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে হাইকোর্ট৷ শেখনিউজ এরপূর্বে আরপিও দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে এই আঘাত হানার পূর্বাভাষ দিয়েছিল। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সরকার ভিন্নপথ অবলম্বন করে। তারা হাইকোর্টের দলবাজ বিচারপতিদের দ্বারা এই আদেশ বের করে নিজেদের চামড়া বাঁচানোর পথ বের করে আনে।

এদিকে হাইকোর্ট ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার জন্যও নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে৷ মোজাম্মেল হোসেনের করা রিট আবেদনটির প্রাথমিক শুনানির পরে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ দিয়েছে৷ যা বিএনপির নেতৃত্বের উপর সরাসরি আঘাত হিসেবেই বিএনপি মনে করে।

এ আদেশের ফলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ওই সংশোধনী আপাতত কার্যকর থাকছে না৷ সুতরাং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলীয় নেতৃত্বে রাখা এবং নির্বাচনে তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ আপাতত থাকছে না বলেই বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব এই প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিএনপি আইনি চ্যালেঞ্জের দ্বারাই এই বিষয়টি নিস্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Facebook Comments
SHARE