জাতীয় ঐক্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় … (৩)

96

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ রাজনীতির মাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছে। ডঃ কামাল হোসেন হুমকি দিয়েছেন ৭ দফা মেনে না নিলে শেখ হাসিনা গংদের আগামীতে বিচারে ভয়ানক শাস্তি হবে। আর ঐদিকে হাসিনা পুত্র সজীব জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগকে হারানোর ক্ষমতা কারো নেই। কথা দুটো আমার মনে ধরেছে।  বিশেষ করে জয় যখন বলেন তারা অজেয়, এই কথাটার মধ্যে যে ক্ষতিকর অহংকার আর জাতির বিরুদ্ধে হুংকার রয়েছে, তা যদি সে বুঝতো তবে ৭৫ এর পরিনতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বলতো। যদিও ৭৫ থেকে কোন পক্ষই শিক্ষা নেয়নি। আমি কিন্তু হত্যা মিন করিনি, বুঝাতে চেয়েছি দাপটের পতন কিভাবে হয় সেটি। 

আগামী ২ সপ্তাহ হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জিং সময়। এসময়ে অনেক কিছু ঘটবে, অনেক চেনা মুখের স্থান পরিবর্তন হবে, এগুলো অন্দরের খবর। বেশি অন্দরের খবরে আবার বিএনপির লোকজন অখুশি হয়। আর সত্য সহ্য করতে পারে না রাজনীতির কোন দলই। সবাই তার পক্ষের কথাই শুনতে চায়। বিপক্ষে গেলে সত্যবাদীও শত্রুতে পরিনত হয়। এগুলো সময়ের হিসেব। সময়ের কারনে প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদেরা গত হয়ে যাওয়ায় যাদের দ্বারা শুন্যতা পূরণ হয়েছে এদের কাছে এর বেশি জাতি কিছু পাবে না। যে কারনে রাজনীতি এখন শত্রুতার মাঠ মাত্র।  প্রতিযোগিতা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষকে দমনের নামে হত্যা করতেও কেউ দ্বিদ্বা করে না। সরকারে থাকলে এই চরিত্রটি ফুটে ওঠে ভয়ংকরভাবে। শেখ হাসিনা এই চরিত্রটিকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দিয়ে গেলেন। তার সময়কাল শেষ হলে তার দলের লোকেরা তার সাথে কাজ করা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর, আমলা, বিচারকেরা এর পাল্টা মাশুল গুনবে হাড়ে হাড়ে; কেউ রক্ষা পাবে না এটা নিশ্চিত।  শেখ হাসিনা গংদের পতন হলে তাদের রক্ষা করতে ডঃ কামাল বা বেগম জিয়া বা অন্য কেউই সক্ষম হবেন না।

ডঃ কামাল ইদানীং যে ভাষায় রাষ্ট্রকে রক্ষার কথা বলছেন আমার কাছে শুনতে ভালই লাগছে, বিশ্বাস করতেও ইচ্ছে করছে। বিশ্বাস করতেও চাই যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠুক খুনি রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক সরকারের বিরুদ্ধে; পতন হোক শিক্ষণীয় ভাবে। কিন্তু সেটি হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? নির্বাচনের দরজায় দাঁড়িয়ে সেটি কি সম্ভব? ৭ দফা পূরণ না করে নির্বাচনে গেলে বা নির্বাচন হয়ে গেলে তার দায় কার উপর বর্তাবে? সেটি না হয় সময়ের উপর ছেড়ে দিলাম।

অনেকেই জেনারেল ওসমানীর টাইটেল চুরি করা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করা কাদের সিদ্দিকির ঐক্যে যোগদানে বাকবাকুম হচ্ছেন; আমি বহু আগেই লিখেছিলাম, ১০ হাজার অনুসারি সহ ব্রিগেডিয়ার মর্যাদায় ভারত দ্বারা লালিত পালিত কাদের সিদ্দিকি একসময় রাষ্ট্রীয় পদে বসবেন ভারতের নীল নকশায়, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রে আসীন হলে কার স্বার্থ দেখবেন? সেটি কি আমরা কখনই ভেবেছি? আমরা যদি আমাদের জাতীয় শত্রু নির্ধারণ না করতে পারি, তবে রাজনৈতিক পরিনতি যে আগামীতে আরও ভয়ংকর হবে না, এর গ্যারান্টি কোথায়? জনগণ হিসেবে কি এটা আমরা চাইতে বা বুঝতে চেষ্টা করতে পারি না? জনগণকে যদি সেই ভারতীয় দাসত্বই বহন করতে হয় তবে শেখ হাসিনা কি আর ডঃ কামাল বা বেগম জিয়াই কি? আসলে আমরা চাই গুণগত পরিবর্তন, যেটি ভারতীয় নকশায় সম্ভব নয়। এটি যারা বুঝেন না বা বুঝতে চান না, এরাই ভারতের দালাল ক্ষমতা লিপ্সু। এর মানে এই নয় যে শেখ হাসিনাকে রেখে দেয়ার ওকালতি করছি। বলছি গুণগত পরিবর্তনের জন্য লড়াইয়ের জন্য; সেটি যদি করতে পারেন তবে ঐক্যের মানুষেরা দেশপ্রেমিক নইলে নন।

একটা বিষয় লক্ষণীয়, মাহমুদুর রহমান, ফরহাদ মজহার, ডঃ আলি আকবর যারা বিভিন্ন সময়ে জাতির দুঃসময়ে কথা বলেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, যে সকল বাম শক্তি জাতীয় ইস্যুতে সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, এরা নীরব কেন? কোথায় যেন একটা কিন্তু কাজ করছে; অপেক্ষায় রইলাম সেটি কিন্তুর খোঁজে।  একসময় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অভাবে জামায়াত কর্মীরা জোটের শক্তি বৃদ্ধি করতো সামনে থেকে; আজকে সময়ের পরিবর্তনে বিএনপির লাখো কর্মীরা জাতীয় ঐক্যের শক্তি বৃদ্ধি করছে সামনে থেকে একই কারনে।  সমজদারকে লিয়ে ইশারাই কাফি।  ইতিহাসের বিবর্তন ঘটে, যেমন ৭৫ এর বেনিফিসিয়ারিরা ৭৫ এর লোকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সময় ও ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর, নিয়তি কাকে কোথায় নেয় কেউ জানে না।

আমার লেখা পড়ে অনেকেই ভাবছেন আমি আসলে জাতীয় ঐক্য হোক এটা বোধ হয় চাই না। আমাদের রাজনীতিতে এখন অনেক পণ্ডিত; সবচেয়ে বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায়; দুনিয়ার খবর রাখে না, বিরক্তকর ভাবে পণ্ডিতি ভাব নেয় অনেকে।  এদের জন্য আবারো বলছি, মাত্র ২% রাজনীতিবিদ রাজনীতির অন্দর বাহির জানেন।  ৮% জানেন বাহির। আর বাকিদের মধ্যে ১০% অন্যের কাছে শুনে জানেন।  ৮০% হচ্ছে জি হুজুরের দল। এটাই সত্য, চ্যালেঞ্জ দিলাম পারলে মিথ্যা প্রমান করুন।  (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Facebook Comments
SHARE