জাতীয় ঐক্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় …(২)

106

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ একটি সংকটজনক অবস্থাকে রাজনৈতিক তামাশা ও চমক বানিয়ে, ধীরে ধীরে নির্বাচন সম্পন্ন করার এই যে দাদাদের খেলা সেটি সম্পন্ন হতে চলেছে।  মনে মনে জাতীয়তাবাদীরা মন কলা খেলেও ক্ষমতা তাদের হাতে কখনই ধরা দেবে না এমনটি নিশ্চিত। জাতীয় ঐক্য পূর্ণ জয়লাভ করলেও সেটি অধরা থেকেই যাবে।  সেই ভাবেই পুরো রাজনীতির মাঠকে সাজানো হয়েছে এখনো হচ্ছে। সবাই ভাবছেন কিভাবে? শুক্রবারেই বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ছাত্রদলের প্রথম দিকের নির্বাচিত সভাপতি এবং সাবেক একজন ধর্ম মন্ত্রী। এরপর ডঃ কামাল শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন শতাধিক হেভিওয়েট ভারতপন্থী। 

প্রথমেই বেগম জিয়ার চারপাশ দলীয় নেতা কর্মী শুন্য করে দেয়া হয়, কাজের মেয়ে ছাড়া আর কোন বীর পুঙ্গবকে পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার হত্যা, ক্রসফায়ার, নির্যাতন, ঘরবাড়ি দখল ইত্যাদির দ্বারা একে একে রাজপথ শুন্য করা হয়, বিচারিক হত্যার মাধুমে সাইজ করে দেয়া হয় পুরো ভারত বিরোধী শক্তিকে। এর দ্বারাই টিকিয়ে রাখা হয় তলে তলে ভারত প্রেমি ও পরবর্তীতে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করা রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের। এখন বাকী থাকে কোটি কোটি জনতা যারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে ভোট দেয়। এখন নাটকের শেষ পর্বের দিকে জাতি আগাচ্ছে। নির্বাচন নামের একটি পিওর নাটক উপহার দিয়ে দিকে দিকে ভারতীয় আধিপত্য চিরস্থায়ী করে দেয়া হবে।

নির্বাচনী নাটকের শেষ অংকটি বেশ মজাদার হচ্ছে। জোট হচ্ছে, জোট ভাংছে, এমনকি ছোট ছোট দলগুলো যাদের মূলত কোন রাজনীতি জানা নেতাও নাই বড় দলের ওয়ার্ড কমিটির নেতা হওয়ার যোগ্যতা নাই, এমন দলও ভেঙ্গে দিয়ে নাটকে বেশ পরিমান কমেডি জমিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঝখানে অন্য শক্তির প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাইজ করতে একটা ‘চরিত্রহীন’ নাটক ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, যাতে শেখ হাসিনা উৎসুক হয়েই তাকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ডাঃ জাফরুল্লাহকে লাইনে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন পরলে তাকেও ঢুকিয়ে দেয়া হবে। তবে ডঃ কামালকে ঢুকানোর রিস্ক শেখ হাসিনা নেবেন বলে মনে হয় না।

এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ভাবে জাতীয় ঐক্যের মাঠ গরম রাখা ছাড়া বিএনপি মুখ্য কোন ভূমিকা আলাদা নিতেও পারছে না। এমনভাবেই আস্টে পিস্ঠে তাদের জরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা বিএনপি বুঝেও চুপ আছে। তারা মনে করছে যদি ঐক্যজোট জিতে যায় তবে সরকার গঠন এবং পরবর্তীতে সবকিছুই তারাই নিয়ন্ত্রন করবে। এখন শুধু মাছ ধরার জন্য সুতো ছাড়ার সময়। কিন্তু নাটকের পরিচালক ও প্রযোজকদের ইচ্ছার বাইরে যে তারা জেতেও পারবে না বা জয়লাভ পরবর্তী দৃশ্যপট যে ভিন্ন হবে সেটি তাদের বুঝেও আসছে না। যদিও তারেক রহমানের চারপাশে যারা তাকে বেষ্টন করে আছে তাদের সেটি বোঝার বা জানার সক্ষমতাও নাই, সেটি তারেক রহমান যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন তার জন্য সেটিই মঙ্গল। কারন অমঙ্গলের ছায়া তার চারপাশে সে নিজেই গড়ে রেখেছেন।

তবে মজার ব্যাপার হলো শেখ হাসিনাকে নাটের গুরু ভাবলেও নাটকের পরিচালক সে কখনই নয়। তিনিও শুধু মাত্র একজন অভিনেত্রী এখানে তার রোল এখন পুরোটাই খল নায়িকায় পরিনত। তবে তিনি বুদ্ধিমতি খল নায়িকা; তলে তলে নিজেও আলাদা প্লট বানিয়ে রেখেছেন; যে কারনেই রক্তপাতও ঘটে যেতে পারে যে কোন সময়।

চলমান নাটকের এই সকল চরিত্রই শেষ নয়; আরও আছে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনেক চরিত্র; যা ধীরে ধীরে প্রকাশমান হবে। এমনকি নাটকের পরিনতি ভিন্ন দিকেও মোড় নিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে দৃশ্যমান চরিত্রগুলোর বাইরে যারা আছেন, সেই অন্যান্য কুশীলব ও অপেক্ষমাণ অভিনেতাদের উপেক্ষা করার কোনই কারন নাই। বাংলার মাটি এখন অনেকের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপেক্ষামান।  (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

Facebook Comments
SHARE