সিদ্ধান্ত হয়েছে বাংলাদেশের সকল বন্দর ব্যবহার করবে ভারত

68

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে নদী সংযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য অভিন্ন নদীর সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও বাংলাদেশের লাভের বিষয়টি সকল সময়েই চেপে রাখা হচ্ছে৷ কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আসামের গুয়াহাটি ও জোরহাটের মধ্যে নদীপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্তও হলেও বিনিময়ে বাংলাদেশ কি পাবে বা বাংলাদেশের আর্থিক লাভটা কি সেটির কোন সিদ্ধান্ত নাই৷

এই সকল বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতকে কত টাকা দিবে তার কোন হদিস বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোন অফিসারের কাছে নেই।  ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হয়, সেটিই গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয় যেখানে বলা হয়েছে পণ্য সামগ্রী পরিবহণে বাংলাদেশের নৌ-যান ব্যবহার করা যাবে৷

নতুন করে আসামের বদরপুরে এবং বাংলাদেশের আশুগঞ্জের পাশে ঘোড়াশালে নদীবন্দর বানানো হবে৷ কলকাতা থেকে ঢাকা, গুয়াহাটি হয়ে জোরহাট পর্যন্ত রিভারক্রুজ চলবে৷ পশ্চিমবঙ্গের গেঁওখালি ও কোলাঘাটের মধ্যে রূপনারায়ণ নদীকে এবার প্রটোকল রুটের মধ্যে আনতে পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট ও বাংলাদেশের চিলমারীকে নদীবন্দরে উন্নত করা হবে৷ এতে বাংলাদেশের ধনীরা কিছু লাভবান হবে কিন্তু রাষ্ট্র কিভাবে লাভবান হবে তার কোন নির্দেশনা কোথায়ও নেই বা জনসমক্ষে এই বিষয়গুলো আনাও হচ্ছে না।  বিরোধী কোন রাজনৈতিক দলও ে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।  এদিকে ভারতের ধুবড়ি ও বাংলাদেশের পানগাঁওকে নতুন বন্দর হিসেবে ব্যবহার করার চুক্তি সই হয়েছে৷ প্রটোকল রুটের সম্প্রসারণের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো সরাসরি কলকাতা, হলদিয়া ও বাংলদেশের মংলা বন্দরকে ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুযোগও পাবে তারা৷

শুধু মাত্র খতিয়ে দেখার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান থেকে বাংলাদেশের রাজশাহী হয়ে আরিচা বন্দর পর্যন্ত প্রটোকল রুট চালুর বিষয়ে প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা এবং ভাগীরথী নদীতে জঙ্গিপুরে নেভিগেশন লক পুনর্গঠনের বিষয়টি।  তবে তা ফারাক্কা দিয়ে গঙ্গার পানি বণ্টনের চুক্তি অনুসারে দেখবে৷ এই প্রটোকল রুট চালু হলে আসামের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জলপথে দূরত্ব ৪৫০ কিলোমিটার কমে যাবে৷ যাতে আগাগোড়াই ভারতের লাভ; কিন্তু বাংলাদেশের লাভটা কি, কোন দলই তা জানতে চায় না। বিএনপিও না।

বলা হয়েছে আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ-ডাউকি জলপথের উন্নয়নে ৮০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা করবে ভারত৷ আসাম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের জন্য যোগীগোপাকে শিপিং টার্মিনাল হিসাবে উন্নয়নের করা হবে৷ মুন্সীগঞ্জ নৌ টার্মিনালে বাংলাদেশ শুল্ক দফতরের পরীক্ষা করা পণ্য কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন করা যাবে বলে সান্তনা দেয়া হয়েছে। আর এতেই বাংলাদেশের কতিপয় ব্যবসায়ি বাকবাকুম করছেন।

বর্তমানে নানা ধরনের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং কারিগরি ও কৌশলগত বাধার কারণে আমদানি ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়৷ রাজনৈতিক এবং বাস্তবায়নগত সমস্যার ফলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি থাকে৷ ট্রান্সশিপমেন্টসহ নানা নামে ভারত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহণের সুবিধা আগে থেকেই পেয়ে আসছে৷ প্রথম নৌ ট্রানজিট বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার প্রদান করে যার ক্ষেত্রে আওয়ামী সরকার অনেক বিস্তৃত করে দেয়; এখন ভারত বন্দর সুবিধাও পাবে৷ কিন্তু এর মাধ্যমে বাংলাদেশও উপকৃত হবে কিনা সেটা কখনই দৃশ্যমান নয়৷

বন্দর ব্যবহার করতে দিয়ে বাংলাদেশ হ্যান্ডেলিং ও ট্রানজিট চার্জ পাবে কিনা সেই বিষয়ে আওয়ামী সরকারের আমলারা বলছেন চার্জ বড় কথা নয়; তাদের কাছে বড় কথা হলো বাংলাদেশ যেন আমাসির নেটওয়ার্ক না হয়৷ আর বাংলাদেশ যদি কাঁচামাল এনে উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানির নেটওয়ার্ক হতে পারে, তাহলেই বাংলাদেশের লাভ৷ এটিকে অভিজ্ঞ মহল গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেলের সাথে তুলনা করছেন।

Facebook Comments
SHARE