নিম্ন কোর্টের চরিত্রহীনতা ও শেখ হাসিনার ইচ্ছায় ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেপ্তার

178

শেখনিউজ রিপোর্টঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত দেয়ার পরেই ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেপ্তার হয়েছেন নিম্ন আদালতের চরিত্র হারানোর সুযোগে।  সোমবার সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নারী সাংবাদিকরা, আপনারাই বা কী করছেন? একটা মামলা হয়েছে, আরও তো মামলা হতে পারে। আপনারা প্রতিবাদও করতে পারেন। আপনারা প্রতিবাদ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন, আমরা যা করার করব।”

স্বনামধন্য আইনজীবী, দি নিউনেশন পত্রিকার মালিক এবং তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে হাইকোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় জামিন দিলেও, রংপুরের নিম্ন আদালতের বিচারক গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলেও শেখ হাসিনার ইঙ্গিতপূর্ণ মনোভাবের পরেই তাকে রাতে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সচেতন মহল নিম্ন আদালতের এই পদক্ষেপ আইন আদালতের চরিত্রের লঙ্ঘন বা চরিত্রহীনতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  আদালতের এই চরিত্রের সাথে যেমন যৌন চরিত্রের সম্পর্ক নেই, তেমনি টিভি টকশোতেও ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের রাজনৈতিক চরিত্র কলংকিত করতেই প্রশ্নকারী মাসুদা ভাট্টিকেও ‘চরিত্রহীন’ বলায় সেটিতে কোন যৌন চরিত্রকে বোঝানো হয়নি। 

কিন্তু তা স্বত্বের ‘মাসুদা ভাট্টি’ এই চরিত্রহীন শব্দটিকে তার যৌন চরিত্রকে ইঙ্গিত করা হয়েছে মনে করেই নারীবাদীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন যদিও এই খেলাকে শেখনিউজ ডট কমের প্রধান সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ আগে থেকেই ছক করা খেলা বলে মনে করছেন।  তার তথ্য মতে এই খেলাটির জন্যই একে একে কয়েকটি ধাপ তৈরি রাখা হয়েছিল; সবগুলো ব্যর্থ হওয়ার পরে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা যখন ব্যারিস্টার মইনুলকে ব্যক্তিগত আক্রমন করলেন, তখনি পরিস্কার হয়ে গেল খেলার আসল রহস্য।  নইলে হাইকোর্টের জামিনের পরে একই চরিত্রের মামলায় ক্ষুদ্র বিচারকের আবারো গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে আদালতের চরিত্র নষ্ট করার কোন ক্ষমতাই হতো না।

নতুন জোটে সক্রিয় মইনুলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর আপনাদের মনে আছে খুনি মোশতাক একটা দল খুলেছিল, এই মইনুল হোসেন কিন্তু সেই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। “এরপরে সে আবার একটি দল করে জাতির পিতার হত্যাকারী, খুনি হুদা, পাশা এদেরকে নিয়ে। তার রাজনৈতিক দলে কারা? জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিরা। তার কাছ আর কী পাবে?”

এরপর পর সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মইনুল হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরে একটি মানহানির মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মইনুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রবের বাসা ঘিরে রাখে। ভেতরে মইনুল ইসলাম অবস্থান করছিলেন। তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর মইনুল হোসেন ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আর বাংলাদেশে একই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা করার এই যে চরিত্রহীন প্রভাব রাজনৈতিক লোকজনের ভেতরে ক্রমেই বেড়ে চলেছে আর আদালতগুলোও ক্রমাগত নিজেদের চরিত্র হারিয়ে এগুলোকে আমলে নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা ও বৈরিতাকে উস্কে দিচ্ছেন। সামাজিক এই নৈরাজ্যের জন্য আদালতের রাজনৈতিক চরিত্র অবশ্যই দায়ী বলে শেখ মহিউদ্দিন মনে করেন।

উল্লেখ্য, নির্বাসিত বিতর্কিত ও নিন্দিত আরেক লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে ‘মাসুদা ভাট্টি’কে খুবই চরিত্রহীন হিসেবে আখ্যায়িত করলেও নারীবাদীরা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না বা মাসুদা ভাট্টিও এখনো কোন মামলা করেন নাই বা তার পক্ষেও কোন মামলা হয় নাই। টাই ব্যারিস্টার মইনুলকে এই গ্রেপ্তার নিম্ন আদালতের চরিত্রহীনতার সুযোগ নিয়ে শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে হয়েছে বলেই জনমনে আলোচনা চলছে।

Facebook Comments
SHARE