জনসভায় বক্তৃতার দোষেও এখন বাংলাদেশে মামলা হয় !

68

শেখনিউজ রিপোর্টঃ আজব এক দেশের নাম বাংলাদেশ, আজব তার রাষ্ট্র ব্যবস্থা, আজব তার রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ। এখন জনসভায় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তৃতায়ও ক্রিমিনাল অফেন্স খুঁজে পায় পাগল হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধিনস্ত ভীতু সরকার ও পুলিশ।  সম্প্রতি বিএনপির অনুমোদন সাপেক্ষে আয়োজিত জনসভায় নেতাদের নির্বাচনী বক্তৃতার কারনে মামলা হয়েছে।  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ‘নাশকতার ভয়াবহ ছক’ আঁকা হচ্ছে- এমন গোপন খবরের ভিত্তিতেই বিএনপি নেতাদের নামে মামলা হয়েছে।

ওই জনসভা শেষে নাশকতার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন ছাড়া অন্যদের ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া না গেলেও ঢাকার হাতিরঝিল থানার আদেশের গোলাম এসআই শরিফুল ইসলাম ওই মামলা দায়ের করেন।  মামলায় এক নম্বর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম, এরপরে রয়েছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,, মওদুদ আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রুহুল কবীর রিজভী ও মির্জা ফখরুলের নাম।

জনসভায় বক্তব্যের পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাতে মগবাজার রেলগেইট এলাকায় যান চলাচলে বাধা দেয়, পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং যানবাহন ভাঙচুর করে মর্মে মামলায় অভিযোগ করা হলেও বিএনপির এই নেতাদের কেউ মগবাজার রেল গেইটের কাছে উপস্থিত ছিলেন না বলে মিডিয়ার কাছে স্বীকার করেছেন মামলার বাদী শরীফুল। কিন্তু মামলায় যে স্থানে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে কোনো ভাংচুরের ঘটনা ঘটার তথ্য সংবাদ কর্মীরা পান নাই।

আজব এই মামলার বাদী এসআই শরীফুল জানান তিনি দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকিদের ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার বা পৌনে এক কিলোমিটারের মধ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তিনি থানায় শুনেছেন; এমনকি তিনি থানায় গিয়ে বাকি পাঁচজনকে পান বলেও মিডিয়ার কাছে স্বীকার করেন। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলেও হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মো. ফজলুল করিম জানান যে পলাতক হিসাবে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে যে ৫৫ জনের নাম-ঠিকানা এজাহারে  রয়েছে। এত দ্রুত তাদের পরিচয় কীভাবে সংগ্রহ কৃতিত্ব অসি ফজলুল করিমের বলে জানান এসআই শরীফুল। তবে ঘটনার সময় ওসি ওই এলাকায়ই ছিলেন না আর পুরো বিষয়টি ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এড়িয়ে যান।

Facebook Comments
SHARE