বাংলাদেশে উঁচুপদের প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ

27

বাংলাদেশ সরকারের প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে সব ধরণের কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করে সরকার গঠিত একটি কমিটি তাদের রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করেছে।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে আগামী মাসেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

‘কোটা বাতিল নিয়ে কোন আফসোস থাকবে না’

চাকরিতে কোটা নিয়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

কেবিনেট সচিবের নেতৃত্ব গঠিত এই কমিটি সুপারিশ করেছে, নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোন কোটা থাকবে না।

অর্থাৎ প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা থাকবে না।

তবে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ার বিধান থেকে যাচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেছেন, ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব আকতারী মমতাজ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণীর পদে প্রবেশনারি পদ শুরু হয় ৯ম গ্রেড থেকে। এরপরের চারটি গ্রেড রয়েছে, যা আগে দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরি হিসাবে বলা হতো। তবে এখন শুধুমাত্র গ্রেড দিয়ে এসব চাকরি বর্ণনা করা হয়।

এই গ্রেডগুলোর আওতায় ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার উভয় চাকরিতে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে থাকে।

বর্তমান সর্বশেষ ৮ম বেতন স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডের মূল বেতন শুরু হয় ২২,০০০ টাকা থেকে।

এরপরের চারটি গ্রেড রয়েছে, যা দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরি হিসাবে বলা হতো। এগুলো হলো ১০, ১১, ১২ এবং ১৩তম গ্রেড। সর্বশেষ গ্রেডটির চাকরি শুরু হয় ১১,০০০ টাকা মূল বেতনে।

এর আগে গত ১৩ই অগাস্ট মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর ঢাকায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সচিব শফিউল আলম বলেছিলেন, “আমাদের কমিটির সুপারিশ হলো কোটা প্রায় উঠিয়ে দেয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেয়া।”

বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে এখন সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা পুরো কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করলেও কোটার একটি বড় অংশ, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় সেটি নিয়েই সবচেয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছিল।

এর বাইরে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা বর্তমান ব্যবস্থায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এই ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

Facebook Comments
SHARE