তারেক রহমানের নেতৃত্বঃ সম্ভাবনা ও বাস্তবতা-২

26

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির কারনে পুরো জাতি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এই বিভক্তি এখন শুধু ক্ষমতাসীনদের দ্বারা প্রতিপক্ষকে প্রানে খতম করাই নই; ভাইরাসের মত উভয়পক্ষে সামাজিক বয়কটও শুরু হয়েছে। আজ লুটপাট এবং নীতিভ্রষ্টতা জাতীয় মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে জাতি এখন প্রার্থনাও করছে। কিন্তু এ সংকটে জাতির সংগ্রামী অংশের নেতৃত্ব দেবেন কে? আর জাতি বলতে আমরা এখন কোন খণ্ডিত অংশকে বুঝাচ্ছি সেটাও প্রশ্ন। আমরা মানি আর না মানি রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে অদুর ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বেলায় তারেক রহমানের নামটি সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; যদি ভিন্ন কোন অরাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

বাংলাদেশে জনগণের সবচেয়ে বড় অংশটি হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারনবাদ বিরোধী মনোভাবাপন্ন। এরা কোন কিছুতেই ব্রাহ্মণীয় শাসন ব্যবস্থা মানতে চায় না। এখনকার আওয়ামী জোট সরকার হাজার হাজার নাগরিককে রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যা, গুম করে সবার মাঝে ভীতি তৈরি করে ভারতীয় দালালীর পক্ষের যে শাসন চালু করেছে; তার বিরুদ্ধে জাতির সবচেয়ে বড় অংশটি নীরবে ফুঁসছে। কিন্তু কেন তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছে না; প্রশ্নটির উত্তর সোজা; তারেক রহমানের নিজের কিছু লোকজন ইতিমধ্যে ভারতের সাথে তার কথিত এক আঁতাতের বিষয় চিত্রিত করেছেন। যে জনতা জেনারেল জিয়াকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় হিরো হিসেবে মেনে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই জনতা ভারতীয় আঁতাতের গন্ধ পেলে নিজের রক্ত দেবে না এটাই স্বাভাবিক। তারেক রহমানই একমাত্র পারেন জাতিকে নিশ্চিত করতে যে জেনারেল জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধিতার জন্য প্রস্তুত থাকবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে পেলেও জীবনের ঝুঁকি তার থেকেই যাবে, যেমন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি ক্ষণ কাটাচ্ছে বর্তমান সরকারের লোকজন।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন সামাজিক ও রক্তের সম্পর্কের মাঝেও বিভক্তি রেখা টেনে দিয়েছে। এটির জন্য ভারতীয় পয়সায় লালিত কিছু চিহ্নিত লোক দায়ী। এরা সকল দলের মধ্যেই বিরাজমান। এই জাতীয় বিভক্তির মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার পরে নেতৃত্ব দেয়ার মত অবস্থাটি এখনো তারেক রহমানের। এটা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অন্য কেউ দখলে নিতেও সক্ষম হবে না; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জনগণ না জানলেও রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল ইতিমধ্যেই জানেন যে তারেক রহমানের শিবিরে অনেক ভারতীয় এজেন্ট এবং মূর্খ ও চাটুকারের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এরা সবাই যে মসজিদের ইমামের মত চরিত্র ধারন করবেন তা নয়, তবে নুন্যতম রাজনৈতিক ও জাতীয় আনুগত্য নিশ্চিতের বিষয়টি তারেক রহমান যদি নিজে অনুধাবন না করেন বা সঠিক পদক্ষেপ না নেন তবে তার রাজনৈতিক সম্ভাবনা হুমকির মুখে থাকবে প্রতিটি মুহূর্তে।

তারেক রহমানের শত্রু ও তাকে বদমেজাজি বলেন না; আমি যতটুকু দেখেছি তার কাছে পৌছাতে পারলে তিনি সকলের কথাই মনোযোগ দিয়ে শোনেন। কিন্তু তার কাছে যাদের পৌঁছানো দরকার তারা ঠিক সময়ে তার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান না। এতে রাজনীতি ও দেশের ক্ষতি হয়, যারা তার কাছে পৌঁছানোর সিঁড়ি হিসেবে কাজ করছেন এটি তাদের দ্বারাই হচ্ছে; এই প্রতিবন্ধকতা তারেক রহমানকে অপসারণ করতে হবে। উল্লেখ্য শেখ হাসিনার কাছে আওয়ামী জনগণের অবারিত দ্বার এটি সর্বজন বিদিত। গণরাজনীতির এই চরিত্র তারেক রহমানের লোকজন না মানলে ক্ষতিটা তারেক রহমানেরই হবে, ঐ বরকন্দাজদের না; কারন তাদের কোন লোকসান নাই। বরং তারেক রহমান আরো বেশীদিন নির্বাসনে থাকলে তাদের অনেকেরই লাভ; একথা দলের বাংলাদেশ অংশে শোনা যাচ্ছে।

১/১১ এর সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পরে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে; নির্যাতনের মাত্রা এমনই ছিল যে সেটিকে উপেক্ষা করার মত পর্যায়ে তিনি এখনো হয়তো নেই। কিন্তু তার জনপ্রিয়তাকে তিনি যদি দেশপ্রেমিক জনতার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য রাখতে একবার ব্যর্থ হন, তবে তা হবে তার জন্য আত্মহত্যার শামিল। কোন চাতুকারের কথায় নয়, নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখেই তাকে ঘোষণা দিতে হবে, দুর্নীতি আর ড্রাগের সাম্রাজের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াবেন; ভারতীয় আধিপত্যবাদ তিনি মেনে নেবেন না; জেনারেল জিয়ার গণ সম্পৃক্ত কর্মসূচীগুলো সব চালু করবেন। আর তার নিজের জন্য একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলবেন। তাকে মনে রাখতে হবে, তার পিতা জেনারেল জিয়া মেধা খুঁজে এনেছেন, তার নিজের চেয়েও যোগ্য ও মেধার মানুষের হাতে দল ও দেশ তুলে দিয়েছেন, এতে তার নেতৃত্ব শানিত হয়েছে, হুমকির মুখে যায়নি। তাকেও তেমনি মেধা খুঁজে আনতে হবে, তার জন্য নয়, দল ও দেশের জন্য, তবেই তার নেতৃত্ব শানিত ও স্বার্থক এবং সফল হবে। সামনে তার জন্য আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে যা অতিক্রম করতে হলে তাকে তার পিতার চিন্তার প্রতিফলন ও তার মত টিম নিয়ে আগাতে হবে। নইলে তার সাথে সাথে জাতীয়তাবাদী জনগোষ্ঠীও হোঁচট খাবে আগামী আরো কয়েক দশকের জন্য।

আজকে ২০ নভেম্বর তারেক রহমানের জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা এবং তার সদিচ্ছা উজ্জিবনের প্রার্থনা থাকল। (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতি, আইন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Facebook Comments
SHARE