ড. কামালদের দাবি সংবিধান সম্মত নয়: তোফায়েল

16

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের করা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দাবি সংবিধান সম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে -গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য নেতাদের এই দাবি অসাংবিধানিক।

রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নির্বাচন হবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে, সংবিধান অনুসারে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ মতে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবের দাওয়াত ছাড়া মির্জা ফখরুল স্বেচ্ছায় নিচেরস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককে তিনি দেশের রাজনীতিবিদদের জন্য অপমানজনক বৈঠক বলেও দাবি করেন।

নেপালের রাষ্ট্রদূত চোপলাল ভ‚ষালের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ভিয়েতনাম সফরের বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, শনিবার পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং নয়টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে জোটবদ্ধ নির্বাচন, সৎ, যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আইন প্রণয়ন-শাসনকাজ পরিচালনার অঙ্গীকার করে জাতীয় ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
সাংবাদিকরা এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে আমরা যাব না। ড. কামাল হোসেন বা তার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা যে বক্তব্য রেখেছেন সেটা সংবিধান পরিপন্থী, সংবিধান সেটা অ্যালাউ করবে না। আমাদের সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

যুক্তফ্রন্ট গঠন প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের এই দেশে কেউ জোট করলে তাকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। আমরা কাউকে ছোট করে দেখি না। আমরাও জোট করেছি অতীতে। এখনও আমাদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট আছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আছে। আরেকটা জোট যদি হয় এটাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক। কিন্তু সে নির্বাচনটি শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এই সরকার দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করবে। নীতিগত বড় কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না এই তিন মাস।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সামগ্রিক সহায়তা দেবে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়।

জাতিসংঘে মির্জা ফখরুলের বৈঠক প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপির মহাসচিবের কর্মকাণ্ডে অবাক হয়েছি। মির্জা ফখরুল জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে নিজেই দেখা করতে চেয়েছেন। এটা তো জাতিসংঘের মহাসচিবের দাওয়াত নয়। নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মির্জা ফখরুল। এটা দেশের রাজনীতিবিদদের জন্য অপমানজনক বৈঠক।

ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তোফায়েল বলেন, সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান-মন্ত্রীদের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন মর্যাদাশালী একটি দেশ। শেখ হাসিনার কারণেই বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

Facebook Comments
SHARE