পাশ্চাত্যমুখী কূটনীতিতেও শিক্ষানবিস ভারতীয় দালাল! – শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ

96

বিএনপির পাশ্চাত্যমুখী কূটনৈতিক রাজনীতি শুরু হচ্ছে আর তাতে ভারতীয় ব্রাহ্মন্যবাদি চরিত্রে কিছুটা হলেও যে অপমানবোধ হচ্ছে বা হবে সেটি আমার বিগত লেখায় আমি পরিস্কার করেছিলাম। ভারতের বাইরে এই লিঙ্ক বিএনপির ভেতরে অবস্থানরত তাদের দালালদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করার বা ভণ্ডুল করার চেষ্টা হবে সেটিরও ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। দাদাদের শিক্ষানবিস দালাল টারজান যিনি একসময়ে লন্ডনে জামায়াত নেতা প্রফেসর গোলাম আজমের বডিগার্ড টিমের সদস্য ছিলেন, সেই শিক্ষানবিস দালালকে একে একে চীন, ভারত হয়ে এখন পাশ্চাত্য কূটনীতিতেও সংযুক্ত করে নিজেদের দেউলিয়াত্বকেই যেন প্রমান করে বিএনপি, সেই কাজটি নিয়ন্ত্রন করে চলেছেন চাণক্য বাবুরা। এটি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যত আগে বোধগম্য হবে ততই তাদের মঙ্গল।

যদিও বিএনপির ভেতরেই আলোড়ন হচ্ছে এই শিক্ষানবিস হাইব্রিড টারজান ছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক অঙ্গন কি পঙ্গু? একেবারেই সত্য কথা হচ্ছে বর্তমান নেতৃত্বের একেবারে কাছের ফুটফরমাশ খাটা মানুষটিও নাকি বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির যে কোন সদস্যের চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান, বাংলাদেশ ও প্রবাসে আমি যত শত বিএনপি নেতাদের জিজ্ঞেস করেছি তারা এই উত্তর দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে টারজান নামের শিক্ষানবিস যে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে চানক্যদের হুকুম মোতাবেক জাতীয়তাবাদীদের বারোটা বাজাবেন এটা অন্তত বিএনপির ৯০% নেতা কর্মী বোঝে। আমি চ্যালেঞ্জ করে লিখছি, গোপন সংবাদ সংগ্রহ করে বিএনপি প্রধান এ বিষয়ে জানার ইচ্ছা থাকলে প্রমান পেতে পারেন।

আগামীতে পাশ্চাত্যমুখী এই কূটনৈতিক ধারা যে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে সেটি ভেবে যারা এই কূটনৈতিক সংযোগের সাথে জড়িত তারাও প্রমাদ গুনছেন। টারজান নামের ঐ ব্যক্তি যদি কখনও বাংলাদেশের বিএনপি অফিসে পদধূলি দেন, সেদিন অফিসের সকল ধুলা পরিস্কার হয়ে যাবে তার দ্বারা, সেটি দলের নেতৃত্ব খোঁজ নিলেও নিতে পারেন।

রাজনীতি আজ আর কারো ব্যক্তি সম্পদ নেই; এখানে সবাই স্টেক হোল্ডার এখন। সামন্তবাদি প্রথার রাজনীতি যেকোন সময় মুখ থুবড়ে পরবে, তার ইংগিত ভয়াবহভাবে দিয়ে গেছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। রাষ্ট্র মেরামতের যে কাজ নতুন প্রজন্ম শুরু করে দিয়ে গেছে, সেটি আগামীতে ডালপালা মেলে সজীব হবে, শক্তিশালী হবে; তাতে সকল দল ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নামের অলীক বস্তুটি বাস্তবতা পাবে; আর বিলীন হয়ে যাবে এই সকল খুদ খাওয়া শিক্ষানবিস দালাল টাইপের লোকজন আর ফুটফরমাশ খাটা সকল কামলা; যারা সবাই স্বপ্ন দেখে এক একজন ফালু হওয়ার।

জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক শক্তি কারো গোলাম নয়; গোলামীর শৃঙ্খল দিয়ে কেউ বা কারো দালালেরা এদের আটকে রাখতে পারবে না। কারন ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ। উল্টো পথে চলতে থাকলে শুধু দেশ আর দল নয়, যে কোন ব্যক্তিও বিলীন হয়ে যেতে পারেন ইতিহাসে। এটি ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতাহীন সকলের জন্য ইউনিভার্সাল ট্রুথ।

লেখকঃ রাজনীতি, মিডিয়া ও আইন কর্মী এবং স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট

Facebook Comments
SHARE